ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ঘরে ঘরে গিয়ে ফর্ম বিলি করা বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়া ঘিরে একের পর এক অভিযোগ উঠছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। কোথাও নাকি ফর্ম বিলি হচ্ছে রাস্তার ধারে বসে, আবার কোথাও পার্টি অফিসেই চলছে ফর্ম বিতরণ! ভোটারদের কাছে এই ধরনের ঘটনা প্রশ্ন তুলেছে— নিরপেক্ষতার ছাপ কোথায়?
ইলেক্টোরাল রোল সংশোধনের জন্য চালু হওয়া এসআইআর (SIR) ফর্ম ঘিরেই শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। অভিযোগ, বেশ কয়েকজন বুথ লেভেল অফিসার বাড়ি বাড়ি না গিয়ে পার্টি অফিস বা প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ি থেকে ফর্ম দিচ্ছেন। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া— একাধিক জেলা থেকে এসেছে এমন রিপোর্ট। আরও চমকে যাওয়ার মতো তথ্য, কোথাও কোথাও নাকি বিএলও নয়, তৃণমূল কর্মীরাই ভোটারদের বাড়িতে ফর্ম নিয়ে যাচ্ছেন!
এই অভিযোগগুলিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি-র অভিযোগ, বিএলও-দের একাংশ নিরপেক্ষতা হারিয়ে শাসক দলের পক্ষে কাজ করছেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও সম্প্রতি কমিশনের দফতরে গিয়ে একাধিক অভিযোগ পেশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যাঁরা নিরপেক্ষভাবে কাজ করবেন না, তাঁদের অবস্থা হবে বিহারের বাহান্ন জন বিএলও-র মতো।”
শেষ পর্যন্ত নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশ যায়— যাঁরা বাড়ি বাড়ি ফর্ম না বিলি করে যেখান-সেখান থেকে দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই সমস্ত বুথ লেভেল অফিসারদের শোকজ করতে এবং প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে ডিসিপ্লিনারি প্রসিডিং শুরু করতে।
আরও পড়ুনঃ TMC worker dea*d: ছাগল চড়ানো নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব! লোহার রড, লাঠি নিয়ে রণ*ক্ষেত্র গ্রাম, প্রাণ গেল এক কর্মীর!
কমিশনের এই পদক্ষেপে প্রশাসনিক মহলে তৈরি হয়েছে চাপা গুঞ্জন। কেউ কেউ বলছেন, ভোটের আগে এমন সতর্কতা প্রয়োজনীয় ছিল। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই নির্দেশের পিছনে বিরোধীদের লাগাতার অভিযোগও বড় ভূমিকা নিয়েছে। এখন দেখার, কমিশনের কড়া পদক্ষেপে সত্যিই কি বদলাবে মাঠের চিত্র, না কি অভিযোগের জাল আরও জটিল হয়ে উঠবে আগামী দিনে।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার