দীর্ঘদিনের পথ চলার অবসান। সমস্ত পুরনো স্মৃতিকে ছেড়ে চলে এলেন তিনি। পড়ে থাকল দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও তাঁর প্রাণের চেয়েও রামমোহন রায় সরণির সেই খিলানওয়ালা বাড়িটি। যেখানে একসময় ছিল তাঁর নিত্য আনাগোনা। সিটি কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে শেষবারের মতো অ্যাটেনড্যান্স রেজিস্টারে সই করে স্বেচ্ছাবসর নিলেন ব্রাত্য বসু।
শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবনের এখনও ১০ বছরেরও বেশি সময় বাকি। কিন্তু তা সত্ত্বেও এখনই প্রাক্তন শিক্ষকের তকমা নিয়ে নিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সহকর্মী থেকে পড়ুয়া, সকলেরই একটাই অনুরোধ, “যাবেন না স্যার”। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় শিক্ষামন্ত্রী। বললেন, “আমিও তো আসতে পারি না। পড়ুয়াদের ক্ষতি হচ্ছে। শুধু শুধু জায়গা আটকে রাখব কেন? বরং নতুন কেউ আসুক, পড়ুয়াদেরও সুবিধা হবে”।

১৯৯৬ সালে সিটি কলেজে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন ব্রাত্য বসু। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি মন্ত্রিত্ব সামলাচ্ছেন। ছুটিতে থাকায় কলেজে নিয়মিত যাতায়াত হয়ে ওঠে না। কিন্তু তা বলে যোগাযোগের সুতোটা কখনই ছিঁড়ে যায়নি। দীর্ঘদিন পর কলেজে ফিরেও এখনও যেন সকলের সঙ্গেই সেই একইরকম আত্মিক সম্পর্ক।
বহুদিন পর তাঁকে কাছে পেয়ে বুধবার সহকর্মীরা কেউ খোঁজ নিলেন তাঁর নাট্যচর্চার। কারও কথাবার্তায় উঠে এল অ্যাকাডেমিক নানা প্রসঙ্গ। কেউ আবার চলচ্চিত্রেও তাঁর সফল ভূমিকার প্রশংসায় হলেন পঞ্চমুখ। এদিন কলেজের বর্তমান পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা রাজ্য বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্যসচেতক তাপস রায়, অধ্যক্ষ শীতলপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়-সহ সমিতির সদস্যরাও এসেছিলেন ব্রাত্যর বিদায় সংবর্ধনায়। পুষ্পস্তবক তুলে দেন তাঁরা। কলেজের অশিক্ষক কর্মী ও ছাত্র সংসদের তরফেও বিদায়ী অধ্যাপককে এদিন সংবর্ধিত করা হয়।
তিনি যেহেতু একাধারে মন্ত্রীও সেই কারণে নানান অভাব-অভিযোগও এদিন সকলে তুলে ধরেন তাঁর সামনে। অশিক্ষক কর্মীর সংখ্যা কলেজে কমতে কমতে তলানিতে ঠেকেছে। হস্টেল এখনও চালু হয়নি। একাধিক কাজও এখনও হয়নি। সমস্ত বিষয় উল্লেখ করে তাঁর দফতরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ব্রাত্য বসু। মন্ত্রীমশাই যে ঠিকই কথা রাখবেন, সে বিষয়ে সকলে বেশ নিশ্চিত।





