প্রজাতন্ত্র দিবস মানেই শুধু জাতীয় গর্ব নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ভারতের প্রতি নজর থাকে। ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, অর্থাৎ ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে আবারো লক্ষ্য করা গেল এই আগ্রহ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভারতের এই বিশেষ দিন উদযাপনের জন্য বার্তা পাঠাল, যা স্পষ্টভাবে দেখায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ বছর ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের আকাশে শুধু পতাকা নয়, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা বার্তা ও কূটনৈতিক আগ্রহও ছড়িয়ে পড়ল।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের চিফ উরসুলা ভন দের লিয়েন বর্তমানে ভারতে সফররত। তিনি ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। ইতিমধ্যেই তাঁর ভারত সম্বন্ধে উচ্ছ্বাস প্রকাশ, দেশটিকে প্রশংসায় ভরিয়ে তুলেছে। তবে শুধু ইউরোপ নয়, এদিন ভারতের জন্য বার্তা এসেছে এশিয়া ও আমেরিকার কক্ষে থেকেও। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
চিনের বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ভারত এবং চিন “ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু এবং সঙ্গী” হিসেবে পরস্পরের সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। শি জিনপিং বলেন, গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমবর্ধমান উন্নত হয়েছে এবং এটি “বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি” বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। চীনা প্রেসিডেন্ট আরও যোগ করেছেন, চিন সবসময় বিশ্বাস করে ভালো প্রতিবেশী ও অংশীদার হওয়া উভয়ের জন্যই লাভজনক। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে উদাহরণস্বরূপ “ড্রাগন ও হাতির একযোগে নাচ” আখ্যা দিয়েছেন।
চিনের শুভেচ্ছার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এবার আমেরিকার বার্তা আসে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের জন্য বিশেষ অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, “বিশ্বের প্রাচীনতম এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত ও আমেরিকা একটি ঐতিহাসিক বন্ধনের ভাগিদার।” পাশাপাশি, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর কুচকাওয়াজে যোগ দিয়ে এটি “দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিশালী প্রতীক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আরও পড়ুনঃ SuvenduAdhikari : ‘এপ্রিলে বদল হবে, বদলাও হবে’— বেহালার উত্তাল রাজনীতিতে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি শুভেন্দু অধিকারীর!
বিশ্বের দুই বৃহৎ শক্তি—চিন ও আমেরিকা, উভয়ই ভারতের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছে, যা প্রমাণ করে ভারত কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বার্তা কেবল শুভেচ্ছা নয়, ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে তুলে ধরারও সুযোগ। প্রজাতন্ত্র দিবসের আকাশে উড়ন্ত বিমানের মধ্যে লুকানো এই অর্থবহ বার্তাগুলো যেন ভারতীয় কূটনীতিক ও সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের গর্বের মুহূর্ত।





