বেহালার সখেরবাজার এলাকা বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর। ছোট কোনও ঘটনাও সেখানে দ্রুত বড় রাজনৈতিক উত্তেজনার রূপ নেয়। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে সেই চেনা ছবি আবারও সামনে এসেছে। একদিকে সভা, অন্যদিকে প্রতিবাদ—এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কলকাতার এই অংশ। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিরোধী শিবিরের তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে।
রবিবার বিজেপি নেতা বিপ্লব দেবের একটি সভাকে কেন্দ্র করে সখেরবাজার এলাকায় অশান্তির সূত্রপাত হয়। সভার প্রস্তুতির সময় এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোকে ঘিরে প্রথমে বচসা শুরু হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। অভিযোগ, তৃণমূল সমর্থকেরা সেই কাজে বাধা দিলে পরিস্থিতি দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। উত্তেজনা এতটাই বাড়ে যে কিছু সময়ের জন্য ডায়মন্ড হারবার রোডে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম অস্থিরতা।
এই ঘটনার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় সেই এলাকাতেই বিজেপির তরফে আয়োজন করা হয় প্রতিবাদ মিছিল ও সভার। নেতৃত্বে ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। শুভেন্দুর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় নেতানেত্রী এবং পুলিশের একাংশ মিলেই এক ধরনের ‘যৌথ ব্যবস্থা’ চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, কোনও ঘটনায় তৃণমূলের নাম জড়ালেই পুলিশ অভিযোগ নিতে অনীহা দেখায়। এই পরিস্থিতিকে তিনি বিরোধী কণ্ঠরোধের চেষ্টা বলেও আখ্যা দেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এপ্রিলে বদল হবে, বদলাও হবে।” এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি শান্তিপূর্ণভাবে সভা বা কর্মসূচি করতে গেলেই পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সংঘর্ষের পর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও সামনে আসে। বিজেপির দাবি, বিপ্লব দেবের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর সভামঞ্চে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অফিসে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ Mohan Bhagwat :আইন মানলেই শক্তিশালী রাষ্ট্র, ভারতকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বে তুলতে নাগরিক কর্তব্যের বার্তা মোহন ভাগবতের!
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় যান তৃণমূলের দুই বিধায়ক দেবাশিস কুমার ও রত্না চট্টোপাধ্যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও প্রশাসনিক তৎপরতায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে এখানেই থামবে না, তা বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। বেহালার এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও তীব্র তরজার আশঙ্কা ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।





