পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ ইস্যুতে আবারও নতুন করে উত্তাপ বাড়ল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রাজ্য সরকার বকেয়া অর্থ মেটানোর ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি—এমন অভিযোগ তুলে এবার আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক মহল থেকে কর্মচারী সংগঠন—সব জায়গাতেই শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনার পর্ব।
জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর তরফে সুপ্রিম কোর্টে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, গত মাসে দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর করতে রাজ্যের তরফে কোনও দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, বাধ্য হয়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটেও মামলার উল্লেখ মিলেছে, যদিও শুনানির দিন এখনও ঘোষণা হয়নি।
এই আবহেই আন্দোলনের রূপরেখা আরও জোরদার করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন কর্মচারীদের একাংশ। সরকারি দফতর, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে আদালত—সব ক্ষেত্রেই এই ধর্মঘট সফল করার লক্ষ্যে প্রচার চলছে বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের দাবি, বকেয়া ডিএ প্রদানই শুধু নয়, আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে তাঁদের দাবিপত্রে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে চার দফা দাবি সামনে আনা হয়েছে। প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ মেটাতে হবে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা যোগ্য অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিত করতে হবে। তৃতীয়ত, সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ছয় লক্ষ শূন্যপদে স্বচ্ছ ও স্থায়ী নিয়োগের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দফতর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিটেলমেন্ট ও প্রতিহিংসামূলক বদলি বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Khawaja Asif: ইরানে শাসক বদলের নেপথ্যে কি ভারত–ইজরায়েল সমন্বয়? পাকিস্তানকে চারদিক থেকে ‘ঘিরে ফেলার’ অভিযোগে বিস্ফোরক খাজা আসিফ!
ধর্মঘট সফল করতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পোস্টার, ব্যানার ও প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ডুয়ার্স কন্যার সামনেও সমর্থনে ব্যানার টাঙানো হয়েছে বলে সংগঠনের দাবি। আহ্বায়কের বক্তব্য, যে সরকার আদালতের নির্দেশ মানতে গড়িমসি করে এবং কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ দেয় না, তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতাই একমাত্র পথ। এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপ ও ১৩ মার্চের ধর্মঘট ঘিরে রাজ্যের পরিস্থিতির দিকে।





