Pahalgam a*ttack : পহেলগাম হামলা তদন্তে নতুন মোড়! চিনে সক্রিয় ‘গো প্রো’ ক্যামেরা ঘিরে জঙ্গি ষড়*যন্ত্রের সন্ধানে এনআইএ! এই অ্যাকশন ক্যামেরাই কি ফাঁস করবে হামলার গোপন নকশা?

গত বছরের ২২ এপ্রিল জম্মু–কাশ্মীরের পহেলগামের শান্ত পাহাড়ি পরিবেশ মুহূর্তে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল। জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বৈসরণ ভ্যালিতে পর্যটকদের লক্ষ্য করে চালানো জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। নিহতদের মধ্যে এক জন নেপালের নাগরিকও ছিলেন। প্রথমে ঘটনাটি শুধুই আরেকটি নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে সামনে এলেও, তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশেষ করে একটি ছোট বৈদ্যুতিন যন্ত্র—একটি গো প্রো অ্যাকশন ক্যামেরা—এই তদন্তে নতুন মোড় এনে দিয়েছে।

হামলার দায় স্বীকার করেছিল দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট, যাকে নিরাপত্তা মহল লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন হিসেবে দেখে। ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। জম্মুর বিশেষ আদালতে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া গো প্রো হিরো ১২ ব্ল্যাক ক্যামেরা—যার ক্রমিক নম্বর C3501325471706—হামলার আগে নজরদারি ও পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তাঁদের দাবি, এই ক্যামেরার ফুটেজ বা ব্যবহারের তথ্য হামলাকারীদের চলাচল ও প্রস্তুতির ধরন বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ক্যামেরাটি প্রথম সক্রিয় হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি, চিনের দংগুয়ান শহরে। নির্মাতা সংস্থা গো প্রো বিভি জানিয়েছে, যন্ত্রটি চিন-ভিত্তিক পরিবেশক ‘এই গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’-এর কাছে সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কে এটি কিনেছিলেন বা কীভাবে তা হামলাকারীদের হাতে পৌঁছল, সে বিষয়ে সংস্থার কাছে কোনও তথ্য নেই। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—ক্যামেরাটি কি সরাসরি কেনা হয়েছিল, না কি একাধিক হাত ঘুরে তা কাশ্মীরে পৌঁছয়?

এই রহস্যের জট খুলতেই চিনের কাছে বিচারিক সহায়তা চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই তাতে সম্মতি দিয়েছে এবং ২ মার্চ জম্মুর বিশেষ আদালতও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। ভারত ও চিনের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সহায়তা সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি না থাকায় আবেদনটি পাঠানো হবে রাষ্ট্রসংঘের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সংগঠিত অপরাধ বিরোধী সনদের আওতায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্যামেরার মালিকানা ও ব্যবহারকারীর পরিচয় জানা গেলে পহেলগাম হামলার বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ছবি আরও স্পষ্ট হতে পারে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal: ডিএ-র ২৫% মেটানোর নির্দেশের পরও নীরব রাজ্য! শীর্ষ আদালতে অবমাননার অভিযোগ, ১৩ মার্চ সর্বাত্মক ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি!

এই হামলার প্রভাব কেবল কাশ্মীরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঘটনার পর ভারত–পাকিস্তান সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। একাধিক বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তে কড়াকড়ি আনে ভারত সরকার। পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে অভিযানে একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংসের দাবি করে ভারতীয় সেনা। কিন্তু সেই সব সামরিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের আড়ালেও তদন্তকারীদের নজর এখন সেই ছোট্ট ক্যামেরাটির দিকে—যার ভেতরে লুকিয়ে থাকতে পারে পহেলগাম হামলার পরিকল্পনার আসল সূত্র।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles