দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে হঠাৎই নতুন করে তীব্র চর্চার জন্ম দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের সাম্প্রতিক মন্তব্য। বহু বছর ধরে বিতর্কে থাকা পাক-অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে নিয়ে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু মামলার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য এলেও, এর রাজনৈতিক প্রতিধ্বনি অনেক দূর পর্যন্ত পৌঁছোচ্ছে। সাধারণ মানুষ থেকে বিশেষজ্ঞ—অনেকেই এখন জানতে চাইছেন, ঠিক কী বলেছেন বিচারপতিরা?
জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালে নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) বরাবর সীমিত বাণিজ্য শুরু হয়েছিল দুই পাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এই বাণিজ্যকে তখন বিশেষ একটি ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়। তবে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পরে ভারত পুরো বাণিজ্যই স্থগিত করে দেয়। সেই সময় পর্যন্ত যে লেনদেন চলেছিল, তার হিসেব-নিকেশ নিয়েই পরে একাধিক মামলার সৃষ্টি হয়। মামলাকারীদের দাবি, ২০১৭ সালের পর থেকে যখন জিএসটি কার্যকর হয়, তখন থেকে ২০১৯ পর্যন্ত যতদিন বাণিজ্য হয়েছে, সেই সময়ের জন্য কেন্দ্র তাঁদের নোটিশ পাঠিয়েছিল। সেই নোটিশ নিয়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।
ডিভিশন বেঞ্চে বিচারপতি সঞ্জীব কুমার ও বিচারপতি সঞ্জয় পারিহার জানিয়ে দেন—পাকিস্তান যেসব এলাকা বর্তমানে দখল করে রেখেছে, সেগুলোও আইনত জম্মু ও কাশ্মীরেরই অংশ। বাদী ও বিবাদী কোনও পক্ষই এই মূল বিষয়টির বিরোধিতা করেননি। তাই এক অংশ থেকে অন্য অংশে পণ্য যাতায়াত হলে সেটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলা চলে না। আদালতের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যেরই আওতাভুক্ত, আমদানি বা রফতানি নয়। ফলে মামলাকারীদের যুক্তিগুলো আদালত গ্রহণ করেনি।
আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে—যেহেতু পিওকে ভারতেরই অংশ, তাই ওই অঞ্চলের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যকে আন্তর্জাতিক ব্যবসা হিসেবে দেখার কোনও ভিত্তি নেই। সেই কারণেই ২০১৭–১৯ সময়কালের জিএসটি সংক্রান্ত নোটিশ নিয়ে যে সমস্ত পিটিশন দায়ের হয়েছিল, সেগুলো আদালত খারিজ করে দেয়। তবে শুধু খারিজ নয়, আদালত মামলাকারীদের আইনজীবী ফয়জল কাদারির পেশাদার মনোভাবেরও প্রশংসা করেছে। তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে দুটি অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ভারতের অভ্যন্তরে—দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই।
আরও পড়ুনঃ West Bengal SIR: পশ্চিমবঙ্গ–সহ ১২ রাজ্যে হঠাৎ SIR-এর তারিখ পিছিয়ে দিল কমিশন! বিএলওদের অতিরিক্ত চাপ, অসুস্থতা ও আত্মহত্যার অভিযোগ কি এই সিদ্ধান্তের আসল কারণ? উত্তাল রাজনৈতিক মহল!
হাইকোর্টের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। পিওকে নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট, তবে আদালতের এমন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বিতর্ককে আরও গতি দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পর্যবেক্ষণ সামনের দিনগুলোতে নীতি নির্ধারণ কিংবা কূটনৈতিক আলোচনায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের মন্তব্যে যা স্পষ্ট—পাক-অধিকৃত কাশ্মীরকে ভারত কখনও নিজের ভূখণ্ডের বাইরে মনে করেনি, এবং ভবিষ্যতেও করবে না।





