শীতের শুরুতেই রাজ্যে ফের উত্তাপ বাড়াচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে যে অস্বস্তি জমছিল বহুদিন ধরেই, তা এখন রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে তাঁদের। শিকড়ছাড়া মানুষের স্বাভাবিক আশঙ্কাই এখানে মুখ্য—নতুন সংশোধনে তাঁদের নাম বাদ পড়ে যাবে কি না, সেই দুশ্চিন্তা প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছিল। আর সেই উদ্বেগ থেকেই এবার বিগত কয়েক সপ্তাহের বিরোধিতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মতুয়াদের একাংশ।
এবার সেই অস্বস্তিকেই সামনে রেখে সোমবার বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মমতাবালা পন্থী ঘনিষ্ঠ অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেতৃত্ব। দুপুর গড়ালে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে বেরোবে তাঁদের প্রতিবাদ মিছিল—অভিমুখ প্রধান নির্বাচন কমিশনের দফতর। এখান থেকেই আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে মূল উদ্দেশ্য—SIR-এর বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবি তোলা। কোনও মতুয়ার নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়, এই কথাই বারবার তুলে ধরতে চান সংগঠনের নেতারা।
এই মিছিলে আরও এক রাজনৈতিক চমক। বহুদিন পর তৃণমূলের একাংশের ডাকে পা মিলিয়ে হাঁটতে দেখা যেতে পারে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। ইতিমধ্যেই তিনি নিজে যোগদানের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। মমতাবালা পন্থী গোষ্ঠীর অনশন মঞ্চেও তাঁর উপস্থিতি চোখে পড়েছিল। তাই সোমবারের মিছিলে তাঁর যোগদানের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র আলোচনা চলছে। যদিও সংসদের শীতকালীন অধিবেশন চলায় মমতাবালা ঠাকুরের মিছিলে শারীরিক উপস্থিতি নিয়ে এখনও সংশয় রয়েছে।
গত সপ্তাহেই এসআইআর ইস্যুতে দীর্ঘ অনশন করেছিলেন মমতাবালা ঠাকুর ও তাঁর অনুগামীরা। দশ দিনের বেশি স্থায়ী সেই আন্দোলনে মতুয়া সমাজের অসংখ্য মানুষ এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের কথায়, বহু বছর আগে দেশভাগের দুঃসহ অভিজ্ঞতা পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। তাই আবার কোনওভাবে নাগরিকত্ব বা ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা তাঁদের অস্তিত্বে আঘাত হানে। সেই কারণেই এবারের মিছিলকে তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলে মনে করছেন। কমিশনের দফতরে পৌঁছে তাঁরা ডেপুটেশনও জমা দেবেন বলে খবর।
আরও পড়ুনঃ “পাক-অধিকৃত কাশ্মীর আসলে ভারতের অংশ”—হাইকোর্টের কঠোর মন্তব্যে তুঙ্গে বিতর্ক!
এই পুরো আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক কটাক্ষও থামছে না। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ব্যঙ্গ করে বলেছেন—“একই বৃন্তে তিনটি ফুল—সিপিএম, কংগ্রেস, তৃণমূল।” তাঁর মতে, ভোটের আগে রাজনৈতিক স্বার্থে সব পক্ষই মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ককে নিজেদের মতো কাজে লাগাতে চাইছে। তবে মিছিল আয়োজকরা বলছেন, এই প্রতিবাদ কোনও দলীয় নয়—এটা শুধুই মতুয়ার অস্তিত্ব রক্ষার দাবি। সব মিলিয়ে সোমবারের মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজনীতির অন্দরেই নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত মিলছে।





