করোনা আক্রান্তদের হেনস্থা, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে উঠল গুরুতর অভিযোগ

রাজ্যের সেরা করোনা হাসপাতাল হিসাবে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজকে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেহাল রূপটা বেআব্রু হয়ে যাচ্ছে। এবার দু’জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠল কলকাতা মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ওই দুই রোগিণীকে হাসপাতালের সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকের সামনে বিনা চিকিৎসায় বসিয়ে রাখা হয়। হাসপাতালের সুপারকেও এই অভিযোগ জানানো হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উদাসীনতায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলেই দাবি তাঁর। দেগঙ্গার বাসিন্দা এক মহিলা কিছুদিন আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি হন। শুক্রবার রাতে তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। শনিবার তাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়।

ওই রোগিণীর পরিবারের অভিযোগ, সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকের সামনে দীর্ঘক্ষণ অ্যাম্বুল্যান্সে বসিয়ে রাখা হয় মহিলাকে। রোগিণীর তীব্র কষ্ট হচ্ছে এই কথা বারবার জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি বলেও জানাচ্ছেন ওই রোগিণীর পরিবার। কাগজপত্র তৈরি এবং ভরতি প্রক্রিয়া মেটাতে মেটাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। পরে যদিও হাসপাতালেরই এক মহিলা কর্মীর তৎপরতায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

দ্বিতীয় যে রোগিণীর সঙ্গে মেডিকেল কলেজ হেনস্থা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে তারও ঘটনাপ্রকৃতি একইরকম। শোভাবাজারের বাসিন্দা ওই রোগিণীও ভরতি ছিলেন আরজি করে। তাঁরও শুক্রবার রাতেই করোনা পরীক্ষা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয় তবে অভিযোগ, কলকাতা মেডিক্যালের সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকের কাছে অ্যাম্বুল্যান্স চালক তাঁকে নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। ভরতি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি সে। তারপর দীর্ঘক্ষণ সুপার স্পেশ্যালিটি ব্লকের সামনে শুয়েছিলেন তিনি।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস দুটি ঘটনার কথাই জানেন।‌ তিনি বলেন যে, ঘটনাগুলো সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের গাফিলতিতেই এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছি। যে সমস্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের গাফিলতিতে এমন ঘটনা ঘটছে, তাদের বরখাস্ত করা হবে।

RELATED Articles

Leave a Comment