মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত বিখ্যাত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য, এমনটাই মনে করেন বিরোধীরা। তিনি কথায় কথায় লম্বা-চওড়া প্রতিশ্রুতি দেন কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ভুলে যান, মুখ্যমন্ত্রীর নাম প্রতিশ্রুতি বন্দ্যোপাধ্যায় হলেই ভাল হয়। এমনই দাবি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি’র। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজ থেকে ১১ বছর আগে পার্শ্বশিক্ষকদের ডিএ, টিএ দেওয়া ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের কেন্দ্রীয় হারে বেতন দেওয়া নিয়ে মূল্যবান প্রতিশ্রুতিকে স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।
রাজ্য সরকার শিক্ষকদের শিক্ষারত্ন সম্মান দেন ঠিকই কিন্তু আমাদের রাজ্যের শিক্ষকদের যে অবমাননা দীর্ঘকাল ধরে হয়ে আসছে তার ধারা এখনও অব্যাহত। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বিরোধী দলনেত্রী ছিলেন তখন তিনি পার্শ্ব শিক্ষকদের অবস্থান বিক্ষোভের একটি মঞ্চে দাঁড়িয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন এই পার্শ্বশিক্ষকদের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় আনা হবে। এছাড়াও আমাদের রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকরা কেন কেন্দ্রীয় হারে মাইনে পান না, এর প্রতিকার তিনি করবেন। এছাড়াও তিনি এই সকল কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ, টিএ পাওয়ার ব্যবস্থা করবেন ইত্যাদি প্রভৃতি। সেই ঘোষণার পর ১১ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল, বিরোধী দলনেত্রী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গেলেন কিন্তু পার্শ্ব শিক্ষকদের অবস্থানের এখনো কোন অগ্রগতি হলো না। শুধু তাই নয় রাজ্যের যে সরকারি কর্মচারীরা আছেন, মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিমত তাদেরকেও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়ার কথা রাজ্য সরকারের। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখনও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ পাননি।
এই নিয়েই এবার ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দিনের ঘোষণার বেশকিছু ক্লিপিংস তিনি তাঁর ভিডিওতে দেখালেন এবং ক্যাপশনে স্পষ্ট বললেন, “মানুষ আপনাকে ভুলতে দেবে না। এদেরকে আপনি ব্যবহার করেছিলেন আর আজকে এদের ভুলে গেলে হবে?”
এই বিজেপি নেতার স্পষ্ট বক্তব্য, যখন ভোটের দরকার ছিল তখন এদেরকে ব্যবহার করেছিলেন মমতা, আজকে এরা অধিকার চাইলে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে এদেরকে মেরে রাস্তা থেকে তোলা হয়, রাজ্যের মন্ত্রীরা আহারে বাংলায় খেতে যেতে পারেন অথচ পাশে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানরত পার্শ্বশিক্ষকদের দেখতে পান না চোখে। এছাড়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে বর্ধিত বেতন এবং ডিএ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তরুণ। এছাড়াও সাত বছর হয়ে গেল রাজ্যে এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। উচ্চ প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক নেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের অবস্থাও রাজ্যে তথৈবচ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এইসকল বিষয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে ভুলে গিয়েছেন এমনটাই বলছেন তরুণজ্যোতি।
২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রে সপ্তম বেতন কমিশন শুরু হয়ে গিয়েছে কিন্তু এই পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন সহ অন্যান্য রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কেন্দ্রীয় হারে বাড়ায়নি মমতা সরকার। অর্থাৎ ভোট পাওয়ার জন্য মাননীয়া যে পার্শ্ব শিক্ষকসহ অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের ব্যবহার করেছিলেন এই কথা এখন স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেই মত বিরোধী শিবিরের। যদিও এই ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত শাসক শিবির থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।





