নির্বাচনের দিন যত এগোচ্ছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে বাম শিবিরের জোট-রাজনীতি। বাইরে থেকে যতটা সরল মনে হচ্ছে, ভিতরে ভিতরে অঙ্কটা ততটাই জটিল। একদিকে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক, অন্যদিকে আইএসএফের বাড়তি আসন দাবি—সব মিলিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরমহলে চাপ স্পষ্ট। ভোটের আগে ঐক্যের বার্তা দিতে চাইলেও, বাস্তবে সেই ঐক্য ধরে রাখা যে সহজ নয়, তা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএম নেতৃত্বের বৈঠক ঘিরেই প্রথম ফাটলটা প্রকাশ্যে আসে। ভরতপুরের এই বিধায়কের সঙ্গে কেন আলোচনা করা হল, সেই প্রশ্ন উঠেছে সিপিএমের অন্দরেই। রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে একাধিক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। শুধু সিপিএম নয়, বামফ্রন্টের বৈঠকেও শরিক দলগুলি এই বিষয়টি তুলেছে। সূত্রের খবর, আলিমুদ্দিনে সেই বৈঠকে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শরিকদের একাংশের দাবি, এই বৈঠকের ফলে ভোটারদের মধ্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার সামনে এলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সূত্রের খবর, শরিক দলগুলির সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠকে বসছেন তিনি। প্রয়োজনে বড় শরিক সিপিএম দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পথেও হাঁটতে পারে। আপাতত সিপিএম হুমায়ুন কবীরকে নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও আগ্রহ না দেখালেও, বিষয়টি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে চাইছে না সবাই—এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে রাজনৈতিক মহলে।
এরই মধ্যে জোট রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে আইএসএফ। নওশাদ সিদ্দিকীর দল আগের তুলনায় বেশি আসনে লড়তে চায় বলে জানা যাচ্ছে। আইএসএফের দাবি, প্রায় ৫০টি আসন। কিন্তু এই দাবিতে আপত্তি রয়েছে ফরওয়ার্ড ব্লক-সহ অন্যান্য শরিক দলের। তাদের সাফ বক্তব্য, আইএসএফের জন্য বাড়তি আসন ছাড়ার প্রশ্নই নেই। নওশাদকে যদি ৫০টি আসন দেওয়া হয়, তাহলে বামফ্রন্টকে পুরো আসন সমঝোতা নতুন করে সাজাতে হবে—যা সহজ নয় বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
আরও পড়ুনঃ Sukanta majumder– prosenjit chatterjee : পদ্মশ্রী শুভেচ্ছা না কি ভোটের আগে বার্তা? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!
সব মিলিয়ে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগোচ্ছে সিদ্ধান্তের ঘড়ি। ২২ ফেব্রুয়ারিকে ডেডলাইন ধরে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে চাইছে সিপিএম নেতৃত্ব। তার আগেই ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বামেরা যেখানে হুমায়ুন কবীর থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছে, সেখানে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন। আগামিকাল আইএসএফের রাজ্য কমিটির বৈঠকে হুমায়ুন প্রসঙ্গে চূড়ান্ত অবস্থান ঠিক হবে। জোটের এই জটিল অঙ্ক শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।





