Sukanta majumder– prosenjit chatterjee : পদ্মশ্রী শুভেচ্ছা না কি ভোটের আগে বার্তা? প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে!

নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির পারদ যখন ক্রমশ চড়ছে, তখনই টলিউডে ছড়াল এক অন্যরকম গুঞ্জন। শনিবার সকালে হঠাৎ করেই শহরের এক নামী অভিনেতার বাড়িতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের যাতায়াত—এই দৃশ্য নতুন নয় ঠিকই, কিন্তু নামটা যখন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল বাড়ে। কে এলেন, কেন এলেন, আর এই সাক্ষাৎ কি নিছক সৌজন্য, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও বার্তা লুকিয়ে—এই সব প্রশ্ন ঘুরপাক খেতেই শুরু করে।

সকাল সকাল সুপারস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপি নেতা ও অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই টলিপাড়ায় শুরু হয় জোর চর্চা। ভোটের আগে কি তাহলে বুম্বাদাকে ঘিরে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশ এমন সম্ভাবনার কথা তুললেও, প্রথমে এই সাক্ষাতের প্রকৃত উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল না। ফলে জল্পনা আরও ঘনীভূত হয়।

জানা যায়, এই সাক্ষাৎ ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্যমূলক। সম্প্রতি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সেই কারণেই তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার ও রুদ্রনীল ঘোষ। এই সাক্ষাতে সুকান্ত মজুমদার প্রসেনজিতের হাতে একটি রামলালার মূর্তি উপহার দেন। বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা অভিনেতার বাড়িতে ছিলেন বলেও জানা গেছে। আলোচনায় উঠে আসে সিনেমা জগত, অভিনয়ের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ইন্ডাস্ট্রির নানা দিক। পাশাপাশি হালকা মেজাজে রাজ্য ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা খোঁজার প্রবণতা নতুন নয়। বিশেষ করে কয়েক সপ্তাহ আগে প্রবীণ অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যাওয়ার পর থেকেই টলিউড ও রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে চর্চা বেড়েছে। রঞ্জিত মল্লিকের বাড়িতে গিয়ে তৃণমূলের উন্নয়নের কথা তুলে ধরার ঘটনাও এখনও অনেকের মনে তাজা। সেই প্রেক্ষাপটে প্রসেনজিতের বাড়িতে সুকান্ত মজুমদারের উপস্থিতি অনেকের চোখে বাড়তি তাৎপর্য পেয়েছে।

আরও পড়ুনঃ India-US trade deal: ভারত–আমেরিকা বাণিজ্যে নতুন মোড়, শুল্ক কমানোর ঘোষণায় কৃষক থেকে এমএসএমই—সুযোগ বাড়বে বলে দাবি মোদীর!

তবে সমস্ত জল্পনায় ইতি টানতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি জানান, এই সাক্ষাৎ কোনওভাবেই রাজনৈতিক নয়। সব কিছুর পিছনে রাজনীতি খোঁজা ঠিক নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, শিক্ষা ও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে রাজনীতির বাইরে রাখাই ভালো। রাজনৈতিক আগ্রাসন থেকে সিনেমা জগত দূরে থাকুক—এই বার্তাই দেন তিনি। পদ্মশ্রী পাওয়ার জন্য প্রসেনজিৎকে সংবর্ধনা জানাতেই তাঁদের যাওয়া, পাশাপাশি অভিনেতার নতুন ছবির সাফল্যের কথাও উল্লেখ করে তাঁর উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন সুকান্ত। সব মিলিয়ে, আপাতত এই সাক্ষাৎ সৌজন্যের আবরণেই থাকছে, যদিও টলিউড-রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা যে এখানেই থামবে না, তা বলাই বাহুল্য।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles