দিঘা মানেই এখন শুধু সমুদ্রসৈকত নয়। ধীরে ধীরে এই পর্যটননগরী এক নতুন ধর্মীয় পরিচয়ও তৈরি করছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভক্তদের ভিড়, পুজো-পাঠের ধ্বনি আর জগন্নাথদেবের দর্শনের আকর্ষণে বদলে যাচ্ছে দিঘার চেনা ছবি। সেই আবহেই ভক্তদের জন্য এল আরও এক নতুন সুযোগ, যা ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে নিঃসন্দেহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এতদিন ভক্তরা ‘ধ্বজাসেবা’ করার সুযোগ পেতেন মূলত পুরীর জগন্নাথধামেই। বহু মানুষের বিশ্বাস, মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা ওড়ানোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুণ্যলাভ ও মানসিক শান্তির অনুভূতি। এবার সেই সুযোগ মিলছে দিঘার জগন্নাথধামেও। প্রতিদিন বিকেল প্রায় ৪টে নাগাদ মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা বাঁধা হয়। সেবায়েতরা পালা করে এই দায়িত্ব পালন করেন এবং সেই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
এই ধ্বজাসেবাকে আরও কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ করে দিচ্ছে মন্দির কর্তৃপক্ষ। এবার থেকে ভক্তরাও সরাসরি ‘ধ্বজাসেবা’-য় অংশ নিতে পারবেন। তার জন্য আগে থেকে বুকিং করাতে হবে। একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করলেই ধ্বজা ওড়ানোর দিনক্ষণ ঠিক করা যাবে। ভক্তদের সুবিধার্থে মন্দিরের তরফে জানানো হয়েছে, ৭৩৬৩০৮৩৮৪২ নম্বরে ফোন করলেই এই পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
শুধু ধ্বজাসেবা নয়, একই নম্বরে যোগাযোগ করে মিলবে বিভিন্ন ধরনের মহাপ্রসাদও। খিচুড়ি ভোগ থেকে শুরু করে মিষ্টি, প্যাঁড়া, লুচি-সবজি, মধ্যাহ্নভোজ ও সন্ধ্যার বিশেষ মহাপ্রসাদ—মোট আট রকমের প্রসাদ পাওয়া যাবে। তবে প্রতিটি প্রসাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বুকিং করতে হবে। ভোরের লুচি-সবজির জন্য আগের দিন, মধ্যাহ্নভোজের জন্য আগের দিন বা সকাল ১০টার মধ্যে এবং সন্ধ্যার মহাপ্রসাদের জন্য সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে বুকিং করাতে হবে। প্রসাদের মূল্য রাখা হয়েছে সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই, ৫০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
আরও পড়ুনঃ SIR in Bengal : খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে নতুন বিতর্ক—সাংসদের পরিবারের সদস্যদেরও হিয়ারিং নোটিস! অভিযোগ তুলেই প্রশ্নের মুখে কাকলি ঘোষ দস্তিদার!
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘার জগন্নাথধাম উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দর্শনার্থীর সংখ্যা এক কোটির গণ্ডি ছুঁয়েছে। নতুন এই ‘ধ্বজাসেবা’ ব্যবস্থার ফলে দিঘার জগন্নাথধাম যে আগামী দিনে আরও বেশি ভক্তের টানে কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে, সে আশা করাই যায়।





