Dilip Ghosh : “কে কাকে বিয়ে করবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়”—হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ!

রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক সময় এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা শুধুমাত্র রাজনীতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের প্রশ্ন—সবকিছু মিলেমিশে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে। ঠিক তেমনই এক ঘটনায় এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। টলিউড থেকে বিধানসভা—দুই জগতেই পরিচিত এক জনপ্রিয় মুখকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক, যা ধীরে ধীরে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আলোচনাতেও জায়গা করে নিচ্ছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে বিজেপির তারকা বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে। অভিযোগ, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনি বিচ্ছেদ না করেই তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। বিষয়টি সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক শিবির। শুধু বিনোদন জগত নয়, এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক মহলেও ‘টক অফ দ্য টাউন’। হিরণের প্রথম পক্ষের স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যে বিতর্ক আরও তীব্র হয়। আইনজ্ঞ মহলের একাংশও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট ১৯৫৫ অনুযায়ী প্রথম বিয়ে বহাল থাকাকালীন দ্বিতীয় বিয়ে আইনত অপরাধ এবং এর জন্য জেল পর্যন্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—বিজেপির অন্দরমহলে এই ঘটনা নিয়ে কী ভাবা হচ্ছে? বিশেষ করে যাঁর হাত ধরে খড়্গপুরে হিরণের রাজনৈতিক ইনিংস শুরু হয়েছিল, সেই প্রবীণ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ কী বলছেন, সেদিকেই তাকিয়ে ছিল রাজনৈতিক মহল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের হাত ধরেই খড়্গপুরে বাজিমাত করেছিলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন তাঁকে দিলীপ-ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা হয়েছে। ফলে এই সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অবশেষে মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “কে কাকে বিয়ে করবে, কীভাবে জীবনযাপন করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।” এই একটি মন্তব্যেই কার্যত বিষয়টি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা। স্পষ্ট করে দিলেন, এই বিতর্কে তিনি কোনওভাবেই জড়াতে চান না। রাজনৈতিক মহলের মতে, অযাচিত বিতর্ক এড়াতেই এমন সংযত অবস্থান নিয়েছেন দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : চন্দ্রকোনার ঘটনার জেরে চাপ বাড়ল রাজ্যের উপর, শুভেন্দুকে সুরক্ষা দিয়ে রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের!

এদিকে হিরণের দ্বিতীয় বিয়েকে ঘিরে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রোল ও মিমে মেতেছেন। কেউ আইন লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ তুলেছেন, কেউ আবার ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু হয়ে এই ঘটনা এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের অন্যতম হাতিয়ার। বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্তিমিত হয়ে যায়—সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles