SIR : যে নথি দেখিয়ে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন ভোটাররা, সেই ডোমিসাইলই এবার প্রশ্নের মুখে—এসআইআর নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ!

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া সাধারণত নীরব প্রশাসনিক কাজ হিসেবেই থেকে যায়। কিন্তু এবার সেই প্রক্রিয়াই রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এসআইআর (SIR) রিভিশন পর্বে হঠাৎ করে এমন একটি সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে, যা সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল—সবার মধ্যেই প্রশ্ন আর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা ইতিমধ্যেই শুনানিতে হাজির হয়ে নিজেদের পরিচয় প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের বা পরিবারের নাম না থাকা বহু তথাকথিত ‘নো-ম্যাপ’ ভোটারকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট ১৩টি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দিয়ে নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার প্রমাণ করতে হবে। সেই তালিকায় রাজ্য সরকারের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত শংসাপত্রের উল্লেখ থাকায় বহু মানুষ ডোমিসাইল সার্টিফিকেট জমা দেন। প্রথমদিকে সেই নথি গ্রহণও করা হয়।

কিন্তু শুনানির মাঝপথেই কমিশনের অবস্থানে বদল আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, এসআইআর শুনানিতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট আপাতত প্রমাণ্য নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদের ফের শুনানিতে ডাকা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

এই নির্দেশ শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়াতে পারে। কারণ, রাজ্য জুড়ে পাড়ায় পাড়ায় সহায়তা কেন্দ্র খুলে ডোমিসাইল সার্টিফিকেট তৈরি করতে সাহায্য করেছে তৃণমূল। কমিশন যদি চূড়ান্তভাবে এই নথি বাতিল করে, তবে সেই উদ্যোগ কার্যত নিষ্ফল হতে পারে। রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি তাই অত্যন্ত সংবেদনশীল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে বাংলায় বড় ছাঁটাইয়ের আভাস? এসআইআর প্রশ্নে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক শুভেন্দু অধিকারীর!

নির্বাচন কমিশনের যুক্তি হল, ‘রাজ্যের জারি করা স্থায়ী ঠিকানা বা বাসস্থান সংক্রান্ত শংসাপত্র’ বলতে ডোমিসাইল সার্টিফিকেটকে ধরা যায় না। কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে যে পদ্ধতিতে এই সার্টিফিকেট ইস্যু হচ্ছে, তা নির্ধারিত সরকারি নির্দেশিকার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই কারণেই আপাতত এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই নথি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত। এর ফলে ‘নো-ম্যাপ’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ এবং ভোটার তালিকার চূড়ান্ত রূপ—দুটিই এখন বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর