Suvendu Adhikari : উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে বাংলায় বড় ছাঁটাইয়ের আভাস? এসআইআর প্রশ্নে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক শুভেন্দু অধিকারীর!

রাজনৈতিক মহলে আবারও উত্তাপ বাড়াচ্ছে এসআইআর (SIR)। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যখন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক তখনই এক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য নতুন করে জল্পনার আগুনে ঘি ঢালল। সংখ্যাটা জানা আছে, কিন্তু বলা যাবে না—এমন মন্তব্যে প্রশ্ন উঠছে, আসলে কী লুকিয়ে আছে এই পুরো প্রক্রিয়ার নেপথ্যে? রাজ্যজুড়ে শুনানি কেন্দ্রে ভিড়, বাদ পড়া নাম, আর প্রশাসনিক চাপানউতোর—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধুই প্রশাসনিক নয়, সরাসরি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

এই আবহেই সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নের মুখে পড়েন পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরপ্রদেশে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোট ভোটারের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলতেই তাঁর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। উত্তরপ্রদেশে প্রায় বারো কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় দুই কোটি একাশি লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই বাদ পড়া ভোটাররা কারা—এই প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু সরাসরি কিছু না বললেও বাংলা ও বিহারের প্রসঙ্গ টেনে এমন ইঙ্গিত দেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু বলেন, “সংখ্যাটা আমি জানি, কিন্তু বলব না।” এই একটি বাক্যই যথেষ্ট হয়ে ওঠে বিতর্ক উসকে দেওয়ার জন্য। তাহলে কি বাংলাতেও উত্তরপ্রদেশের মতো বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়তে চলেছে? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে ভিনরাজ্যের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত কোনও ইঙ্গিত? শুভেন্দু স্পষ্ট করে কিছু না বললেও, তাঁর মন্তব্য থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সমীকরণ কষতে শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক থামেনি। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর জানা যায়, ইতিমধ্যেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। বর্তমানে চলছে দ্বিতীয় পর্বের শুনানি। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নাম ফেরাতে শুনানি কেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।

আরও পড়ুনঃ West Bengal Weather: হাড়কাঁপানো শীতে কাবু বাংলা, কুয়াশার চাদরে ঢেকেছে শহর থেকে গ্রাম

এই আবহেই দার্জিলিং, তরাই ও ডুয়ার্সের চা শ্রমিকদের নথির বৈধতা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বহু চা শ্রমিক বংশপরম্পরায় ওই অঞ্চলে বসবাস করলেও তাঁদের কাছে স্কুল সার্টিফিকেট বা জন্ম সংক্রান্ত নথি নেই। এই সমস্যা শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের। সেই কারণেই ২০০৬ সালে বনাঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বন অধিকার আইন (Forest Rights Act) আনা হয়েছিল। এসআইআরের ১১ দফা নথির মধ্যে বন অধিকারের নথি গ্রহণের দাবি তুলে শুভেন্দু ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। এখন দেখার, এই দাবির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles