TMC leader m*urder : তৃণমূল প্রধানকে বিয়েবাড়ি থেকে বেরোতেই পরপর গুলি! জেল থেকে ছাড়া দুষ্কৃতীর নাম উঠতেই এলাকায় উত্তেজনা— তদন্তে নেমেছে পুলিশ!

হাওড়ার ডোমজুড় এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ছিল অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিক। পাড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠান, আলো-আনন্দে জমে থাকা সন্ধ্যা—সবই যেন উৎসবের ছবি এঁকে রেখেছিল। এমন পরিবেশের মধ্যেই হঠাৎ ঘটে গেল এমন এক ঘটনা, যা রাতারাতি গোটা এলাকাকে আতঙ্কে কাঁপিয়ে দিল। স্থানীয়দের কথায়, এমন হিংসার চেহারা এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সাঁপুইপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত ওরফে বাবু মণ্ডল সেদিন রাতে বাড়ির কাছেই এক বিয়েবাড়িতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ করে বেরোনোর মুহূর্তেই আচমকা এক দুষ্কৃতী খুব কাছ থেকে তাঁর দিকে গুলি চালায়। তখন দেবব্রতবাবুর সঙ্গে আরও সাত-আট জন সঙ্গী ছিলেন। পরপর দুটি গুলি তাঁর শরীরে লাগে—একটি বাঁ হাতের কনুইয়ের পাশে, অন্যটি কোমরের কাছে। ঘটনার আকস্মিকতায় সঙ্গীরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে।

চিকিৎসকরা জানান, গুলির অবস্থান অত্যন্ত জটিল হওয়ায় তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। সকালে তাঁর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি শুরু হয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ঘটনাস্থলে মোট পাঁচ থেকে সাত রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। এর মধ্যে একটি গুলি তাঁর পিঠ ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। এই ঘটনার পরেই উঠে আসে এক নাম—সুমন চৌধুরী। তোলাবাজি ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত এই দুষ্কৃতী কয়েকদিন আগেই জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—তাঁকে লক্ষ্য করেই কেন গুলি চালানো হল? আহত তৃণমূল নেতার দাদা সুব্রত মণ্ডলের কথায়, “ভাইকে আমরা সবসময় এলাকায় জনপ্রিয় মুখ হিসেবে দেখেছি। পঞ্চায়েত প্রধান হিসেবে প্রচুর কাজ করেছে। কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল বলে জানি না।” তাঁদের দাবি, সুমন চৌধুরীর সঙ্গে দেবব্রতবাবুর কোনও ব্যক্তিগত বিরোধও ছিল না। তাহলে এমন হামলার কারণ কী? রাজনৈতিক প্রতিশোধ? নাকি অন্য কোনও গোপন দ্বন্দ্ব? তদন্তে সেই উত্তরই খুঁজে দেখছে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ West Bengal politics : “তৃণমূল হলে ঘর, বিরোধী হলে কিছুই নয়”—স্থানীয় নেতার ভাইরাল মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে!

এ ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে গোটা সাঁপুইপাড়া এলাকা কার্যত থমথমে। রাস্তায় মানুষের আনাগোনা কম, দোকানপাটও অনেকটাই বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও এই অঞ্চলে মাঝে মাঝে দুষ্কৃতী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে বিয়েবাড়ির মতো জনবহুল স্থানে এমন গুলিবর্ষণ তাঁরা জীবনে দেখেননি। ইতিমধ্যে পুলিশের একটি দল এলাকা ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হোক।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles