West Bengal politics : “তৃণমূল হলে ঘর, বিরোধী হলে কিছুই নয়”—স্থানীয় নেতার ভাইরাল মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা চরমে!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু গ্রামীণ এলাকায় গত কয়েক বছরে আবাস যোজনাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ওঠে। কোথাও তালিকা নিয়ে অসন্তোষ, কোথাও আবার সুবিধা কারা পাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন। কিন্তু এবার জয়নগর বিধানসভার শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে যে ভিডিওটি সামনে এসেছে, তা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে সন্দেহ ও ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি—সরকারি প্রকল্প সবার জন্য হলেও বাস্তবে কি অন্য কোনও হিসেব কাজ করছে?

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তৃণমূলের দাপুটে নেতা বাবু গাজী ওরফে গাজী আবুল হোসেন কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলছেন, যাঁরা দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে চলেন, তাদের দোতলা বাড়ি থাকলেও আবাস যোজনার বাড়ি আগে দেওয়া হবে। আবার ক্ষতিগ্রস্ত বা অস্থায়ী ঘরে থাকা বিরোধী দলের কর্মীরা কোনওভাবেই এই সুবিধা পাবেন না বলেও শোনা যায় সেই ভিডিওতে। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই এলাকাজুড়ে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে—সরকারি প্রকল্প কি শুধুই দলের মানুষের জন্য?

এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শ্রীপুর পঞ্চায়েত বহুদিন এসইউসিআই–র দখলে ছিল। পরে তৃণমূল ক্ষমতায় আসে, আর বিরোধী হিসেবে উঠে আসে বিজেপি। এই দুই দলেই বহু মানুষ ভাঙা বাড়িতে বা প্লাস্টিকের ছাউনি দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। কিন্তু অভিযোগ, যাঁরা তৃণমূলের কর্মী বা সমর্থক নন, তাদের নাম প্রকল্পের তালিকায় ওঠে না। স্থানীয় বিজেপি এবং এসইউসিআই সমর্থকদের দাবি—দলীয় পরিচয় দেখে প্রকল্প দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে কারা সরকারি সুবিধা পাবেন, তা ঠিক করছে রাজনৈতিক রঙ—এমন ভাবনাই এখন এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাবু গাজীর কথিত “ফর্মুলা” অনুযায়ী, আবাস যোজনা হোক বা লক্ষী ভান্ডার—উভয় ক্ষেত্রেই দলীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিরোধী দলের কিছু পরিবারের বক্তব্য—বাড়ির চাল ভেঙে পড়লেও তারা নাম লেখাতে পারছেন না। অন্যদিকে, তৃণমূল সমর্থকরা বলছেন—বাবু গাজীর মন্তব্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যভাবে দেখানো হচ্ছে এবং এটি দলের নীতি নয়। ফলে বিষয়টি ঘিরে দুই পক্ষের তরফেই পাল্টা-তর্ক শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Insurance Scam : ৫০ লাখের বিমা পেতে নকল ‘মৃত*দেহ’ নিয়ে শ্মশানে! পোড়ানোর আগেই রহস্য ফাঁস!

যদিও অভিযোগ কতটা সত্য, তা এখন তদন্তেই প্রমাণ হবে। তবে একটি ভিডিও যে পুরো এলাকা জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। স্থানীয়দের দাবি—সরকারি প্রকল্প রাজনৈতিক রঙে নয়, বাস্তব পরিস্থিতি দেখে দেওয়া উচিত। পঞ্চায়েতের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত কী হবে, বা প্রশাসন এই ভিডিওর পর কী পদক্ষেপ নেবে—এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে জয়নগরের মানুষ।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles