Donald Trump Warning India: ভেনেজুয়েলা আবহে মোদির নাম করে হুঁশিয়ারি—রাশিয়ার তেল কিনলে বাড়বে শুল্ক?

বিশ্ব রাজনীতির আকাশে ফের ঘনাচ্ছে অস্থিরতার মেঘ। একের পর এক বিতর্কিত পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে এশিয়া—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ডেই তাঁর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়, ঠিক তখনই আরেকটি বড়সড় কূটনৈতিক বার্তা সামনে এল—এবার সরাসরি ভারতের উদ্দেশে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও জটিল হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই আবহে ফের একবার শুল্ক-হুমকির প্রসঙ্গ তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই প্রথম নয়, আগেও একাধিকবার অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ভারতকে বার্তা দিয়েছে আমেরিকা। তবে এবার বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে জ্বালানি রাজনীতি এবং রাশিয়া-যোগ।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে তিনি “অখুশি”। তাঁর বক্তব্য, ভারত যদি এই পথে চলতে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই আরও বেশি শুল্ক চাপানো হতে পারে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, এই সিদ্ধান্তে তিনি অনড় এবং ভারতের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা। যদিও একইসঙ্গে তিনি মোদিকে “ভাল মানুষ” বলেও উল্লেখ করেন, তবু কূটনৈতিক ভাষার আড়ালে চাপের সুর স্পষ্ট।

এই অবস্থান নতুন নয়। আগেও ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কেনায় তিনি হতাশ। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর গণেশ চতুর্থীর দিন থেকেই ভারতের উপর প্রায় ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করেছিল আমেরিকা। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে সমালোচনা হলেও ট্রাম্প নিজের অবস্থান থেকে একচুলও নড়েননি। বরং বারবার ভারতকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সম্পর্ক ছিন্ন করার বার্তা দিয়ে গিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ TMC: তৃণমূল ছাড়ার হিড়িক! দুর্নীতি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বিদ্রোহে প্রায় ২০০ কর্মী—ভোটের আগে কতটা বিপাকে শাসক দল?

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এল, যখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। ভেনেজুয়েলা ঘটনার পর ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে—এই চাপ কি শুধুই অর্থনৈতিক, নাকি এর নেপথ্যে আরও গভীর বার্তা লুকিয়ে রয়েছে? আগামী দিনে ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর গোটা বিশ্বের।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles