ভোটের বছর এলেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে উত্তাপ যে নতুন করে বাড়ে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজনৈতিক দলগুলির অন্দরমহলে শুরু হয় হিসেব-নিকেশ, মাঠে নামে কর্মী-সমর্থকেরা, আর সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। কে কোথায় দাঁড়িয়ে, কার উপর ভরসা রাখছে মানুষ—এই সবকিছু মিলিয়েই রাজ্য রাজনীতির ছবি দিনে দিনে আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই আবহেই একের পর এক খবর উঠে আসছে, যা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল এলাকায় শাসক শিবিরের অস্বস্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরেই এখানে উন্নয়ন, প্রশাসনিক ভূমিকা ও জনপ্রতিনিধিদের কাজকর্ম নিয়ে চাপা ক্ষোভ ছিল বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ভোট যত এগোচ্ছে, সেই ক্ষোভ যেন প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আর তারই প্রতিফলন হিসেবে ডোমকলের রাজনীতিতে এক বড়সড় নড়াচড়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ডোমকলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডকে ঘিরে এই নড়াচড়া এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে প্রায় ২০০ জন কর্মী-সমর্থক কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ডোমকল টাউন কংগ্রেস সভাপতি ইমদাদুল হক মীরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণাই এই দলবদলের মূল কারণ। তাঁর বক্তব্য, মানুষের কাছে উন্নয়নের যে ছবি তুলে ধরা হচ্ছিল, বাস্তবের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক থাকায় বিশ্বাস ভেঙে পড়েছে।
তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যাঁদের নিয়ে দলবদলের কথা বলা হচ্ছে, তাঁরা নতুন কেউ নন। তাঁদের মতে, এই কর্মী-সমর্থকেরা আগেও কংগ্রেসের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন, এখন তা বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে থাকা অনেক কর্মীই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের কারণেই শিবির বদল করেছেন।
আরও পড়ুনঃ Bangladesh : খু*নের কথা বলেও জামিন, অসুস্থ অবস্থায়ও মুক্তি নেই— মেহদি বনাম চিন্ময় প্রভুতে প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশ বিচারব্যবস্থা!
সব মিলিয়ে ডোমকলের এই ঘটনা শুধু একটি ওয়ার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই যোগদান কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে পারে এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা যেতে পারে। ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল রাজ্যের রাজনীতিতে যে নতুন করে উত্তাপ ছড়াবে, তা বলাই বাহুল্য। আগামী দিনে এই ঘটনার প্রভাব কতটা গভীরে গিয়ে পড়ে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





