কিছুদিন আগে বাঁকুড়াতে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল একটি বিশাল জলের ট্যাঙ্ক। এবার সেই দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল সল্টলেকে। হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল বহু পুরনো একটি জলের ট্যাঙ্ক। দীর্ঘকাল ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান দমকল বিভাগের কর্মীরা, বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এবং পুরনিগমের একটি প্রতিনিধিদল। ঘটনাস্থলে হতাহতের কোনও খবর নেই।

সল্টলেক সিটি সেন্টারের কাছে বিধাননগর সিসি ব্লকের পিএনটি আবাসনের কাছে ট্যাঙ্কটি বসানো ছিল। বিএসএনএল কর্মীদের জন্য এই আবাসন একসময়ে জমজমাট থাকলেও, গত ৫ বছর ধরে আবাসনের অবস্থা এতটাই ভগ্নপ্রায় যে অধিকাংশ বাসিন্দারাই চলে গিয়েছেন অন্যত্র।এখন আবাসনটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে বিএসএনএলই। এমনই একটি আবাসনে বৃহস্পতিবার সকালে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি জলের ট্যাঙ্ক, যার ধারণ ক্ষমতা ৩৩০০০ গ্যালন। ঘটনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আবাসনটিতে। যে ক’জন বাসিন্দা সেই মুহূর্তে আবাসনটিতে রয়েছেন, তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘকাল ধরে এই আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। সেই অবহেলাতেই ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সিটি সেন্টারের কাছে বিএসএনএলের আবাসনটিতে যায় বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এবং দমকল বিভাগের কর্মীরাও। তাঁরা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে হাত লাগান। এক বিশাল অংশ আটকে পড়েছে ধ্বংসস্তুপের কারনে। ট্যাঙ্ক ভাঙার কারণে আবাসনের কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এই ট্যাঙ্ক রক্ষণাবেক্ষণের কোনও দায়িত্বই ছিল না বলে জানাচ্ছেন বিধাননগর পুরনিগম। তা সত্ত্বেও এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় একটি প্রতিনিধি দল।

জানুয়ারি মাসে নির্মাণের বছর দুয়েকের মধ্যেই বাঁকুড়ার খাতড়া পিডব্লুডি’র একটি জলের ট্যাঙ্ক এভাবেই ভেঙে পড়েছিল। যা নিয়ে সেসময় রাজ্য রাজনীতি বেশ সরগরম হয়ে উঠেছিল। এবং সেই ট্যাংক ভাঙার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় চারিদিকে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি নির্মাণকারী সংস্থাকে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয় যে সেতুগুলির পর ট্যাঙ্কগুলিরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে। কিন্তু তাতে যে কোনো টনকই নড়েনি, সিসি ব্লকের ট্যাঙ্ক ভাঙাই তার প্রমাণ। রাজ্যে একের পর এক সেতু ভাঙার পর এবার ট্যাংক ভাঙার রেকর্ড গড়তে চলেছে নাকি রাজ্য!





