নৈহাটি বড়মার মতোই দমদম আর এম গুহ রোডের বড়মারও আলাদা এক স্থানীয় আবেগ ও ভক্তির প্রতীক। শরতের হাওয়া যখন শহরের পথে ভেসে বেড়ে যায়, তখন ধুপের সুবাস আর উলুধ্বনিতে পুরো এলাকা যেন থমকে যায়। লোকেরা জানে, এই সময় মা আসছেন—কিন্তু শুধুই পূজা নয়, এটি একটি জীবন্ত ঐতিহ্য যা বহু প্রজন্ম ধরে ধারাবাহিকভাবে চলমান। ছোট্ট পাড়ার মানুষদের স্বপ্ন আর ভক্তি থেকে শুরু হওয়া এই উৎসব এখন হয়ে উঠেছে লক্ষ লক্ষ ভক্তের মিলনক্ষেত্র।
এই পুজোর গল্প শুরু হয় ১৯৫৯ সালে। স্থানীয় এক বৃদ্ধ স্বপ্নে মা কালীকে দেখে নির্দেশ পান ২১ ফুট উঁচু একটি ঠাকুর নির্মাণের। সেই সময় অর্থ, সময় আর সামর্থ্য কম থাকায় বড় ঠাকুর তৈরি করা সম্ভব হয়নি, কিন্তু ঘর পুজোর মাধ্যমে উৎসব শুরু হয়। আজও এই ঘর পুজো লক্ষ্মীপুজোর দিন দিয়ে পূজার সূচনা করে। স্থানীয়রা বলেন, মা কেবল ঠাকুরেই নয়, তাদের চোখে ও মনে জীবন্ত থাকেন—যেন মা তাদের সঙ্গে আছেন, প্রতিটি ভক্তের হৃদয়ে।
দমদম বড়মার পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সমাজসেবার এক বড় মঞ্চও বটে। পাঁচ দিনের এই পূজার সময় কম্বল ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়, দারিদ্র্যজনিত কারণে পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ ছাত্রদের সহায়তা করা হয়, এবং চিকিৎসকরা দুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। এইভাবে পুজো মানুষকে শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক ভক্তি দেয় না, বরং সামাজিক সহানুভূতিরও প্রতীক হয়ে ওঠে।
পুজার আয়োজনকারীরা জানান, সমস্ত কাজই মায়ের আশীর্বাদে সম্ভব। ২১ ফুট উঁচু ঠাকুরের শোভাযাত্রা স্থানীয় রাস্তায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলে। লক্ষ লক্ষ ভক্ত আসেন প্রসাদ নিতে, কেউ শুধু মা দেখতে। প্রত্যেকের চোখে জল, হৃদয়ে শান্তি, আর মুখে একটাই উচ্চারণ—“জয় মা।” এই প্রসাদ শুধুই খাওয়ার নয়, বরং আশীর্বাদ বটে।
আরও পড়ুনঃ Donald Trump : “ভারত যদি রাশিয়ার তেল কেনা না বন্ধ করে, তাহলে শুল্কের বোঝা আরও বাড়বে”— ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, মোদীর সঙ্গে কথা বলার দাবিও তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট!
৬৬ বছর ধরে এই ঐতিহ্য অটুট রয়েছে। মানুষের প্রজন্ম বদলেছে, শহর বদলেছে, কিন্তু মায়ের প্রতি ভক্তি অটল। নৈহাটির বড়মার মতোই দমদমের বড়মা প্রতিটি হৃদয়ে জীবন্ত, প্রতিটি বছর নতুন আশা ও আনন্দের আলো বয়ে আনে। এখানকার প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি ধুনের গন্ধ যেন দর্শককে মুগ্ধ করে, আর ভক্তদের মনে করে দেয়, মা শুধুই দর্শনের নয়, বরং জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।





