বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্প্রতি নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একের পর এক ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে যে, নির্বাচনের পর সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের মধ্যে ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ দেশত্যাগের পরিকল্পনা চলছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে দেশে আতঙ্ক আর কৌতূহল দুটোই মিলিয়ে দিচ্ছে নতুন ধরনের জল্পনা। বিশেষ করে, দেশ ছাড়ার আগে কি কোনো সঙ্কটজনক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সবাই প্রশ্ন তুলছেন।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালেই দেশ ত্যাগ করেছেন। যদিও তিনি সরাসরি দেশত্যাগের কারণ স্পষ্ট করেননি, তবে জানিয়েছেন, ‘৯ ও ১০ তারিখে অফিস থেকে বিদায় নিয়েছি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রণালয় থেকে বিদায় দেওয়া হয়েছে’। এই তথ্য জানার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু করেছেন।
ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তিনি দেশে ত্যাগ করার সময় নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। যদিও তিনি কোন দেশে গেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি আরও জটিল করে তুলেছে তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে উঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। তবে নিজের বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, কোনও দুর্নীতিতে তিনি জড়িত নন এবং মন্ত্রকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি কঠোরভাবে কাজ করেছেন।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের ফলাফলের পর ইউনুস ঘনিষ্ঠদের নিরাপদ দেশত্যাগের পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। এর আগে বহু ইউনুস ঘনিষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োজিত ছিলেন। নির্বাচনের পর এই পদধারীরা নিরাপদে দেশ ছাড়বেন—এমন কথাই এখন সবার মুখে মুখে। ফয়েজের দেশত্যাগ এই গুঞ্জনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari : “জেল পর্যন্ত হতে পারে”—নির্বাচনী আধিকারিকদের কড়া বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর, কমিশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বাড়ল রাজনৈতিক চাপ!
অতীতে ইউনুস জামাত ও এনসিপির সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে কার্যত মধ্যস্থতা করেছিলেন। তবে ক্ষমতায় না আসায় কিছুটা ব্যাকফুটে ছিলেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই নতুন প্রস্থানের ফলে ভবিষ্যতে সরকারের কর্মকাণ্ডে কোন ধরনের প্রভাব পড়বে এবং তারেক রহমান বা অন্য রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ইউনুসের সম্ভাব্য সমঝোতা কি কোনো রূপ নেবে—সেটা সময়ের সঙ্গে জানা যাবে। এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের কৌতূহল একই সঙ্গে বাড়িয়ে দিয়েছে।





