Egg Price Hike : ডিম কিনতেই হিসেব কষছে মধ্যবিত্ত! শীতের বাজারে কেন ৮ টাকার নিচে মিলছে না ডিম?

শীত এলেই রান্নাঘরে ডিমের ব্যবহার বেড়ে যায়। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে রাতের খাবার—সহজে পুষ্টি পাওয়ার ভরসা ডিম। কিন্তু এ বছর শীত পড়তেই সাধারণ মানুষের সেই ভরসার খাবারটাই যেন একটু দূরে সরে যাচ্ছে। বাজারে ডিম মিলছে, কিন্তু দাম দেখে অনেকেই দু’বার ভাবছেন। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক পিস ডিমের দাম ৮ টাকা, কোথাও আবার ৯ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক পরিবারেই আগের মতো দু’টো ডিম না নিয়ে একটিতেই কাজ চালাতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ এমন কী হল যে শীত পড়তেই ডিমের দাম লাফিয়ে বাড়ল?

আসলে এই দামবৃদ্ধি শুধু কলকাতায় সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লি, মুম্বই, পটনা, রাঁচী—প্রায় সব বড় শহরেই একই ছবি। যেখানে সাধারণত ডিমের দাম ৭ টাকার আশেপাশে থাকত, সেখানে এখন ৮ থেকে ৯ টাকাই নতুন বাস্তবতা। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, জানুয়ারিতে দাম আরও বাড়তে পারে। যদিও অনেকের কাছেই এই দাম অস্বাভাবিক মনে হলেও, পোলট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ধাপে ধাপে, হঠাৎ করে নয়।

পরিসংখ্যান বলছে, গত অগস্ট-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর মাসে ডিমের দাম ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। গত বছর ডিমের জোগান তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যার প্রভাব চলতি বছরেও পড়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পশুপালকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছিলেন না। চলতি বছরে সেই ক্রয়মূল্য সংশোধন হওয়ায় উৎপাদন স্তরেই খরচ বেড়েছে। ফলে তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরো বাজারে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চাহিদার চাপ। শীতকালে সাধারণত মুরগির ডিম পাড়ার হার কিছুটা কমে যায়। অথচ ডিসেম্বর মাসে ডিমের চাহিদা বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। কেক, বেকারি পণ্য তৈরিতে ডিমের ব্যবহার বাড়ে, পাশাপাশি শীতে ডিম খাওয়ার প্রবণতাও বেশি থাকে। উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি ডিমের প্রয়োজন পড়ে, যার বড় অংশই বাইরে থেকে আনতে হয়। পরিবহণ ও আমদানির খরচ যোগ হওয়ায় সেখানে এক পিস ডিমের দাম ৮ থেকে ১০ টাকায় পৌঁছেছে।

আরও পড়ুনঃ JU Hijab Row: সমাবর্তনের মঞ্চে প্রতিবাদ, পরীক্ষার হল ঘিরে হিজাব বিতর্কে উত্তাল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়!

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জানুয়ারিতে প্রতি ডিমে আরও ১৫ থেকে ২০ পয়সা দাম বাড়তে পারে, ফলে দাম সাড়ে আট টাকায় পৌঁছনোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা। পোলট্রি ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমান দামকে অতিরিক্ত বলা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে পড়ে বহু ফার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোগান কমেছে। এখন যদি ডিমের ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে জোগান আরও কমবে—আর তখন সাধারণ মানুষকে আরও বেশি দাম দিয়েই ডিম কিনতে হবে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles