ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগের সময়ে যদি সেই নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি অন্য মোড় নেয়। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘিরে জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজ্যে। অভিযোগ উঠেছে, এক সরকারি আধিকারিক নাকি সরাসরি শাসকদলের হয়ে প্রচারে নেমেছিলেন। আর সেই অভিযোগই এখন বড় সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেল নির্বাচন কমিশনকে।
পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের জয়েন্ট বিডিও জ্যোৎস্না খাতুন-এর বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে প্রচারের অভিযোগ সামনে আসে। সরকারি পদে থেকে কীভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করা যায়, তা নিয়েই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। বিরোধীদের তরফে বিষয়টি নিয়ে সরব হওয়া হয় এবং নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরপরই বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করে কমিশন।
অবশেষে কমিশনের নির্দেশে জ্যোৎস্না খাতুনকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা-কে চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু সাসপেন্ড নয়, তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দ্রুত অন্য কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই চিঠির একটি কপি পাঠানো হয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল-এর কাছেও।
যা আরও বিস্ময়ের, এই জ্যোৎস্নাই কিছুদিন আগেই নির্বাচনী কাজে দক্ষতার জন্য প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলে পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। সেই একই আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনের একাংশও অবাক। সরকারি কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি জ্যোৎস্না খাতুন।
আরও পড়ুনঃ প্রযুক্তির যুগে পুরনো কৌশলের প্রত্যাবর্তন! নদীপথে অনুপ্রবেশ রুখতে কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা!
শুধু খণ্ডঘোষই নয়, অন্য জায়গাতেও একইভাবে কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য-কেও সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রানাঘাটে প্রশিক্ষণ চলাকালীন এক শিক্ষক, সৈকত চট্টোপাধ্যায়-এর উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে এই সিদ্ধান্ত। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে স্পষ্ট ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করতে নারাজ নির্বাচন কমিশন।





