রাজ্যের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের তোলা অভিযোগকে সঠিক ও সত্য বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। সুপ্রিম কোর্টের এদিনের পর্যবেক্ষণ ও নোটিসের প্রসঙ্গে এমন দাবি করেন তিনি। এদিন সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সহ ৪ রাজ্য- মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মত ব্যক্ত করে।
করোনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেহের সৎকারও সঠিকভাবে হচ্ছে না বলে জানায়। এই মর্মে নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় সরকার সহ ৪ রাজ্যকে। শীর্ষ আদালত বলে, হাসপাতালগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে। কোনও কোনও রাজ্যে দেহ আর্বজনার গাড়িতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। মৃতদেহগুলোর সঙ্গে পশুর লাশের মতো ‘ট্রিট’ করা হচ্ছে। এমনকি আত্মীয় পরিজনরা রোগীর মৃত্যুর খবর পর্যন্ত পাচ্ছেন না। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সুপ্রিম কোর্টের এই বক্তব্য সামনে আসার পরই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে পাল্টা তোপ দেগেছেন আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, “আমরা এই অতিমারী করোনা রোগের শুরু থেকেই বারবার কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। দুই সরকারকেই সতর্ক করে অনুরোধ করেছি, এখন কোনও সঙ্কীর্ণ রাজনীতি নয়, সঙ্ঘবদ্ধভাবে এই মারণরোগকে মোকাবিলা করতে হবে। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। আমরা যেহেতু বিরোধী দলের লোক। তাই আমাদের গঠনমূলক প্রস্তাবকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জনতা কার্ফুর শেষে জনগণকে কাঁসর ঘন্টা বাজাবার আহ্বান জানিয়ে রাস্তায় মিছিলে নামিয়ে দিলেন। মারণরোগের প্রতিরোধের নাম করে আতসবাজির উৎসব করে শাসকদলের ৪০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করল।”
মান্নান আরও বলেন, “আর মুখ্যমন্ত্রী বাজারে দাগ কেটে কে কোথায় দাঁড়িয়ে কেনাবেচা করবেন, তার নির্দেশ দিলেন! করোনাকে পাশবালিশ হিসেবে ব্যবহার করতে উপদেশ দিলেন!
সুপ্রিম কোর্টের এই অসন্তোষ প্রকাশ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এতদিন বিরোধীদের তোলা অভিযোগ কতটা সঠিক এবং সত্য।” প্রশ্ন তোলেন, “জনগণকে এবার কী বলবে সরকার?”





