Kolkata : “পুরুলিয়া-বাঁকুড়ায় জল বিদ্যুৎ নেই” — কলকাতার রাস্তাঘাটির বেহাল দশার অভিযোগের জবাবে ফের বিতর্কিত মন্তব্য ফিরহাদ হাকিমের!

কলকাতার রাস্তাঘাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমে রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষত পুজোর মরসুমে ভিড় বেড়ে গেলে খুঁতগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম ঘটল না। শুক্রবার পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন কলকাতা পুরনিগমের মেয়র ফিরহাদ হাকিম। আর সেখানেই হঠাৎ সামনাসামনি এক মহিলার প্রশ্নে কার্যত চাপে পড়লেন তিনি। কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তরে মেয়রের মন্তব্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঘটনা দক্ষিণ কলকাতার ১৬ নম্বর বোরো এলাকায়। বেহালার জেমস লং সরণি থেকে শুরু করে শখেরবাজার মতিলাল গুপ্ত রোড ও হরিদেবপুর মহাত্মা গান্ধী রোড পর্যন্ত ঘুরে ঘুরে রাস্তার অবস্থা খতিয়ে দেখছিলেন মেয়র। ঠিক তখনই আচমকা এক মহিলা এগিয়ে এসে প্রশ্ন তুললেন, “গত বছর পুজোর সময় রাস্তার যা অবস্থা ছিল, এবছরও তাই আছে। এক-দু’ মাসে মেরামতি হলেও বছর ঘুরতেই আবার আগের মতো খারাপ হয়ে যায়।” অভিযোগকারিণীর দাবি, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বারবার একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে অথচ স্থায়ী সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

এই প্রশ্নে প্রথমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি জানান, যেসব জায়গায় জল জমে সেখানেই রাস্তা নষ্ট হয়। তাই পেভার ব্লক বসিয়ে মেরামতির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ওই মহিলাই উদাহরণ টেনে বলেন, বাঁকুড়া বা পুরুলিয়ার মতো জেলাতেও রাজ্য সরকারই রাস্তা করেছে, অথচ সেগুলো ভাল অবস্থায় রয়েছে। এখানেই নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে কার্যত বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন মেয়র। তাঁর জবাব ছিল— “ওখানে জল নেই, ড্রেন নেই, বিদ্যুতের সাপ্লাই নেই।” অর্থাৎ জঙ্গলমহলে মৌলিক পরিষেবার অভাবের কারণেই রাস্তার ক্ষতি হয় না, এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন তিনি।

স্বাভাবিকভাবেই এই মন্তব্যকে হাতছাড়া করেনি বিরোধীরা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ তোপ দেগে বলেন, “অন্যত্র যে জাতীয় সড়ক হয়েছে, সবই কেন্দ্রের উদ্যোগে হয়েছে। যা খাওয়ার খাওয়া হয়ে গিয়েছে, এখন শুধু ঈশ্বরই ভরসা।” বিরোধীদের দাবি, মেয়রের বক্তব্য রাজ্য সরকারেরই ব্যর্থতার প্রমাণ। যেখানে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো পরিষেবার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীর এমন মন্তব্য জনমানসে আরও অসন্তোষ বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Nachiketa Chakraborty : ‘রাম’ নিয়ে বিতর্কের সমাপ্তি! নচিকেতা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এফআইআর খারিজ করল হাই কোর্ট, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাকারীর আবেদন খারিজ!

তবে বিতর্ক বাড়তেই পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্যাখ্যা দেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, কলকাতার মতো শহরে নানা ইউটিলিটি পরিষেবা রয়েছে। ফলে ঝড় বা বৃষ্টিতে সমস্যা বাড়ে। তবে শহরে বিদ্যুৎ লাইন ভূগর্ভস্থ থাকায় সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটে না। অথচ বাইরে ঝড় হলে দ্রুত বিদ্যুৎ চলে যায়। মেয়রের এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— পুরুলিয়া-বাঁকুড়ার মতো অঞ্চলে সত্যিই কি জল, বিদ্যুৎ বা ড্রেনেজ পরিষেবার অভাব রয়েছে? আর সেই কারণেই কি সেখানে রাস্তা টিকে যাচ্ছে? আপাতত এই মন্তব্য নিয়েই জোরদার রাজনৈতিক তরজা চলছে বাংলার রাজনীতিতে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles