বাংলার সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে এক সময় গুঞ্জন সৃষ্টি করেছিল গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তীর ‘রাম’ মন্তব্য ঘিরে। তবে এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অভিযোগ নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত সমাজে একটি শান্ত বার্তা দেয়। কলকাতা হাই কোর্ট সম্প্রতি এই মামলায় চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে এবং নচিকেতার বিরুদ্ধে এফআইআর না-করাকে ‘যথার্থ’ বলে ঘোষণা করেছে।
ঘটনাটি দুই বছর আগে ঘটে। ২০২৩ সালের মে মাসে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সম্পাদক অনির্বাণ ভট্টাচার্য শ্যামপুকুর থানায় এবং পরে কলকাতা পুলিশের ডিসিকে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ ছিল, নচিকেতা একটি লাইভ কনসার্টে এমন মন্তব্য করেছেন, যা জনমানসে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং ভগবান রামের ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। পুলিশ তখনই এফআইআর দায়ের করেনি। অনির্বাণ নিম্ন আদালতে গিয়ে পুনরায় মামলা দায়েরের আবেদন করেন।
নিম্ন আদালতের রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযোগকারীর কাছে কোনও স্পষ্ট প্রমাণ ছিল না। তিনি নিজে কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন না এবং কেবল সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ক্লিপ দেখেই অভিযোগ করেছেন। এছাড়া, নচিকেতা ওই এলাকার নিয়মিত বাসিন্দা নন এবং গত তিন বছরে সেখানে কোনো কনসার্ট করেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও কোনো অভিযোগ আসেনি। এই কারণেই নিম্ন আদালত অনির্বাণের আবেদন খারিজ করেন।
নিম্ন আদালতের এই রায় চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যান বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা। তারা জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ঘৃণাপূর্ণ বক্তব্যের ক্ষেত্রে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা করতে পারে। তবে হাই কোর্টের বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের পর্যবেক্ষণ, ‘‘সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো কিছু পোস্ট বা ক্লিপের উপর ভিত্তি করে এফআইআর দায়ের করা যায় না। অভিযোগে তারিখ, সময় বা স্থান উল্লেখ নেই।’’ আদালত আরও জানিয়েছে, নচিকেতার বিরুদ্ধে কোনো স্বাধীন অভিযোগ, দাঙ্গা বা বিশৃঙ্খলার প্রমাণ নেই
আরও পড়ুনঃ Bengal Weather Update: মহালয়া থেকেই শুরু নিম্নচাপের খেলা, পুজো জুড়েই বৃষ্টির পূর্বাভাস
শেষে হাই কোর্ট ঘোষণা করেছে, নিম্ন আদালতের রায় সঠিক ছিল এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে মামলাকারীর আবেদন খারিজ করা হল। এই রায় নচিকেতার মতো শিল্পী এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য এক ধরনের নিশ্চয়তা দিচ্ছে যে, সামাজিক মাধ্যমে ভ্রান্ত তথ্য বা অনুমানকে ভিত্তি করে দায়ের করা মামলা সবসময় গ্রহণযোগ্য নয়।





