প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে ঠিকই, তবে এরই সঙ্গে বেড়েছে ভয়ও। স্মার্টফোন নষ্ট হলে আজকাল আমরা অনায়াসে স্থানীয় সার্ভিস সেন্টার বা রিপেয়ার শপে সেটি দিয়ে আসি। কিন্তু সেখানেই যদি লুকিয়ে থাকে অচিন্তনীয় বিপদ? এমনই এক ঘটনার সাক্ষী হল কলকাতা। এক তরুণী নিজের ফোন সারাতে দিয়েছিলেন একটি দোকানে। তারপর যা ঘটল, তা যেন এক দুঃস্বপ্নের থেকেও ভয়ঙ্কর।
তরুণীর অভিযোগ, তাঁর ফোনের ভিতরে থাকা ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও রিপেয়ার শপ থেকে ফাঁস করা হয়েছে। এর পর থেকেই তিনি ভেঙে পড়েছেন মানসিকভাবে। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমার ফোন সারাতে দিয়েছিলাম, আর আজ সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে দাঁড়িয়েছে।” অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই বিষয়টি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে।
ওই তরুণী জানিয়েছেন, ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর তিনি এতটাই ট্রমায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন যে পরিবার থেকেও নিজেকে আলাদা করে নিয়েছেন। মা–বাবা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন না, সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছেন, ফোন নম্বর বদলে ফেলেছেন এবং প্রায় ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি মানুষের সঙ্গে মিশি না, বাইরে যাই না, ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছি। আমি জানি না কীভাবে এই দুঃস্বপ্ন থেকে বের হব।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলেছেন, সার্ভিস সেন্টারে কখনও পাসওয়ার্ড শেয়ার করা উচিত নয়, কারণ সেখান থেকেই বড়সড় বিপদ ডেকে আনা সম্ভব। কেউ কেউ আবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের মতে, নিকটবর্তী থানায় বা সাইবার সেলে অবিলম্বে FIR করা উচিত। কারণ তথ্যপ্রযুক্তি আইনে (IT Act) গোপনীয়তা লঙ্ঘন, যৌন স্পষ্ট উপাদান প্রকাশ, ভয়েরিজম ইত্যাদির বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে ৫–৭ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার শাস্তি হতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)-এও অভিযোগ করা সম্ভব। তাদের নির্দিষ্ট ইমেল complaintcell-ncw@nic.in এর মাধ্যমে সরাসরি বিষয়টি জানানো যায়। তবে ভুক্তভোগী তরুণী এখনও ন্যায়বিচারের আশায় দ্বিধাগ্রস্ত। অন্যদিকে নেটিজেনরা বলছেন, “যদি ফোন রিপেয়ার শপ থেকেও এভাবে গোপন তথ্য ফাঁস হয়, তবে নারীদের সুরক্ষার অবস্থা কতটা ভয়াবহ!”
আরও পড়ুনঃ Narendra Modi : রাজনীতিতে কুরুচির ছাপ!কংগ্রেস মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর মায়ের নাম টেনে কুরুচিকর স্লোগান! তীব্র নিন্দা বিজেপির!
এই ঘটনায় অনেকেই মত দিয়েছেন যে, পরিবারের উচিত সন্তানের পাশে দাঁড়ানো, বিশেষত মেয়েরা এমন সংকটে পড়লে তাদের একা না ফেলে। নেটিজেনদের মতে, এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, বরং নারীদের নিরাপত্তা এবং গোপনীয়তার প্রশ্ন। তাই প্রত্যেকের সচেতন হওয়া জরুরি ফোন রিপেয়ার শপে দেওয়ার আগে ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষিত রাখা, পাসওয়ার্ড না শেয়ার করা এবং প্রয়োজনে আইনি পথে এগোনোই একমাত্র সমাধান।





