বেশি বিশ্বাসের জায়গা থেকেই অনেক সময় জন্ম নেয় সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ। কিন্তু সেই বিশ্বাস যদি পরিবারের পরিসর পেরিয়ে সমাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ব্যক্তির হাতেই ভেঙে যায়, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় স্বাভাবিক। সোনারপুরের ঘটনায় ঠিক তেমনই এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এক তরুণীকে ভয় দেখানো ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয় কাজের সূত্রে। সেই সময় অভিযুক্তের বাড়িতে পাইপলাইনের কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াত ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অভিযুক্তকে ‘কাকু’ বলেই সম্বোধন করতেন নির্যাতিতা। পরিবারের তরফ থেকেও সেই সম্পর্ক নিয়ে কোনও সন্দেহ বা বাধা ছিল না। মাঝেমধ্যে অভিযুক্ত ওই নাবালিকাকে ঘুরতে নিয়ে যেতেন, যা পরিবারও স্বাভাবিক বলেই ধরে নিয়েছিল।
অভিযোগ, এই সুযোগকেই কাজে লাগান অভিযুক্ত। ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে একাধিকবার নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময়কার গোপন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও মোবাইলে তুলে রাখা হয়। নির্যাতিতা জানান, ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়েছিল। ভয়, লজ্জা এবং সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে দীর্ঘ সময় কাউকে কিছু বলতে পারেননি তিনি। এভাবেই কেটে যায় কয়েক বছর।
সম্প্রতি নির্যাতিতার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে অভিযুক্ত। অভিযোগ, হবু বরের পরিবারের কাছে গিয়ে সেই পুরনো ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিয়ে ভেঙে দেন তিনি। পাশাপাশি হুমকিও দেওয়া হয়। এরপরই সাহস সঞ্চয় করে সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভূমি সংস্কার দফতরের ওই আধিকারিককে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় নির্যাতিতা নাবালিকা ছিলেন, তাই পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Anandapur Fire Burst: আনন্দপুরের আগুনে মৃত্যু-নিখোঁজের ছায়া, অনুমতি ছাড়াই চলছিল কারখানা! ডিজির কথায় নতুন বিতর্ক!
নির্যাতিতা অভিযোগ করেন, তাঁকে একাধিকবার হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে এবং দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করা হয়েছে। অভিযুক্ত সরকারি আধিকারিক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত নিজে বিবাহিত এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার করেন। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলছে। এই ঘটনা ফের একবার দেখিয়ে দিল, পরিচিত মুখ আর বিশ্বাসের আড়ালেই লুকিয়ে থাকতে পারে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধ।





