আনন্দপুরের সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এখন শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়, যত সময় যাচ্ছে তা রূপ নিচ্ছে এক গভীর প্রশ্নচিহ্নে। শহরের এক প্রান্তে রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এই আগুনের ঘটনা এখনও বহু পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে দিয়েছে। কারও স্বজন নিখোঁজ, কারও আবার চেনা মানুষটির আর ফেরার সম্ভাবনাই নেই। ঘটনার পর কেটে গিয়েছে একাধিক দিন, কিন্তু ধোঁয়া কাটলেও প্রশ্ন কাটেনি—কীভাবে এত বড় বিপর্যয় ঘটল, আর কেনই বা সবকিছু এত দেরিতে সামনে আসছে?
গত ২৫ জানুয়ারি গভীর রাতে আনন্দপুর এলাকায় একটি মোমো তৈরির কারখানায় হঠাৎ আগুন লাগে। শুরুতে আগুনের ভয়াবহতা বোঝা না গেলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই সময় কারখানায় নাইট শিফট চলছিল বলে জানা গিয়েছে। বহু শ্রমিক ভিতরে কাজ করছিলেন। আগুন লাগার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও, ভিতরের পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে অনেক জায়গায় পৌঁছনোই সম্ভব হয়নি। ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে মৃত্যুর খবর, উদ্ধার হয় একাধিক ঝলসে যাওয়া মৃতদেহ।
এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ জন নিখোঁজ অথবা মৃত বলে অনুমান করা হচ্ছে। যদিও প্রশাসনের তরফে চূড়ান্ত তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনায় রাজনৈতিক উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আগুন লাগার প্রায় ১০ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু গোটা ২৬ জানুয়ারি দমকলমন্ত্রীর দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছন, যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৃত ও নিখোঁজদের পরিবার।
আগুন লাগার কারণ নিয়েও একাধিক তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, কারখানার ভিতরে বিপুল পরিমাণ পামতেল মজুত ছিল। দাহ্য এই তেল থেকেই আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার নেয়। পাশাপাশি আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—কারখানার বাইরে থেকে তালা লাগানো ছিল। যদি এই অভিযোগ সত্যি হয়, তবে ভিতরে আটকে পড়া শ্রমিকদের বেরিয়ে আসার কোনও সুযোগই ছিল না। বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ minor ab*use: পারিবারিক ভরসাই হল সর্বনাশের কারণ!‘কাকু’র আড়ালে নাবালিকার সর্বনা*শ, গ্রেফতার সরকারি অফিসার!
এদিকে আজও অগ্নিদগ্ধ কারখানায় উদ্ধারকাজ চলছে। এত দেরিতে উদ্ধারকাজ শুরু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলে দমকল বিভাগের আধিকারিক সুজিত জানান, পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ছিল। অনেক জায়গায় দেওয়াল কেটে ভিতরে ঢুকতে হয়েছে। আগুন নেভার পরেও গোডাউনের ভিতরে তাপমাত্রা ছিল অত্যধিক। সেই কারণে রাতের বেলা উদ্ধারকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই দুর্ঘটনা কি শুধুই একটি অগ্নিকাণ্ড, না কি এর পিছনে রয়েছে একাধিক গাফিলতির গল্প, যার মূল্য দিতে হল এতগুলো প্রাণকে?






