Humayun Kabir : “রাজনৈতিক কারণে মসজিদ করছি না”—দাবি হুমায়ুনের! “উনি কি মন্দির বানাতেই মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?”— মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে তির্যক প্রশ্ন হুমায়ুনের!

রাজনীতির মাঠে কখনো চুপচাপ না থেকে সরাসরি বক্তব্য দেওয়াই হুমায়ুন কবীরের স্বভাব। এবারও ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এক বিতর্কিত মন্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজ্য রাজনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে হিন্দুত্বকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধীর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছে। তবে হুমায়ুনের মূল লক্ষ্য সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তিনি দাবি করেছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে মসজিদ তৈরি করতে তিনি চাইছেন না।

হুমায়ুন স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর মসজিদ তৈরির ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো সমালোচনা বা প্রতিক্রিয়া আসেনি। হুমায়ুনের মতে, “তৃণমূল আমাকে আন্ডার এস্টিমেট করেছিল। তখন কেন কেউ প্রশ্ন তোলেনি?” এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির জন্য নতুন চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে নয়, ব্যক্তিগত ও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে মসজিদ তৈরির উদ্যোগ নেন।

রাজনীতির অতীতেও হুমায়ুন কম আলোচিত ছিলেন না। একসময় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত হুমায়ুন, সময়ে সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং নির্বাচনে লড়েছেন। কখনও দ্বিতীয় স্থানে, কখনও তৃতীয় স্থানে থেকেও তিনি কখনও হাল ছাড়েননি। এবার তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করার পাশাপাশি বিজেপি আঁতাতের অভিযোগও এনেছে। তবে সব বিতর্কের মধ্যেও হুমায়ুন নিজের বক্তব্যে নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন রেখেছেন।

সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য তৈরি হয় হুমায়ুনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী নিয়ে মন্তব্যে। তিনি বলেন, “মমতা না শুভেন্দু, কে বড় হিন্দু, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। শুভেন্দু নিজেকে সনাতনী বলছেন, আর মমতা সরকারি অর্থ দিয়ে বিভিন্ন মন্দির তৈরি করছেন। জগন্নাথ মন্দিরকে ওড়িশা থেকে টেনে এনেছেন, নিউ টাউনের ইকো পার্কের পাশে স্বাস্থ্য ভবনের জায়গায় মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে।” হুমায়ুন প্রশ্ন তুলেছেন, “উনি কি মন্দির তৈরি করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন?”

আরও পড়ুনঃ Indigo : হাজার ফ্লাইট বাতিল, রাতভর যাত্রীদের দুর্ভোগ! ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! শাস্তির হুঁশিয়ারি দিলেন বিমানমন্ত্রী!

সবশেষে হুমায়ুন আবারো জোর দিয়ে বলেছেন, তার মসজিদ নির্মাণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। তিনি চাইছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার বুঝে নিতে এবং সঠিক সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে। হুমায়ুনের এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনীতিকে নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যেখানে হিন্দুত্ব ও সংখ্যালঘু অধিকার দুটোই এখন একসাথে নজর কেড়েছে।A

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles