Indigo : হাজার ফ্লাইট বাতিল, রাতভর যাত্রীদের দুর্ভোগ! ইন্ডিগোর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! শাস্তির হুঁশিয়ারি দিলেন বিমানমন্ত্রী!

দেশের বিমানযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভরসা যেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই ইন্ডিগোর পরিষেবা নিয়ে টানাপোড়েন যাত্রীদের চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। টানা দুই দিন ধরে শতাধিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীর পরিকল্পনা একেবারে ভেস্তে গিয়েছে। অনেকেই রাতভর বিমানবন্দরে আটকে থেকেও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পাননি। স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে যাত্রীদের মধ্যে।

যখন বারবার বিমান বাতিলের খবর সামনে আসতে লাগল, তখনই বিষয়টি নিয়ে নড়ে বসে বিমান মন্ত্রক ও ডিজিসিএ। তদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন পর্যায়ে গলদ হয়েছে এবং কার ভুল পরিকল্পনার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি, তার খতিয়ান তৈরির দায় সেই কমিটির। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—যাঁরা এই বিভ্রাটের নেপথ্যে রয়েছেন, তাঁদের অবশ্যই মূল্য চোকাতে হবে।

এদিকে ধীরে ধীরে পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানালেও শনিবারও বহু ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে ইন্ডিগোকে। দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নতির দিকে যাচ্ছে ঠিকই, তবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব করতে রেলওয়ে সারাদেশে ৩৭টি ট্রেনে অতিরিক্ত ১১৬টি কামরা যুক্ত করেছে। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টেও যাত্রীদুর্ভোগের বিষয়টি পৌঁছে গিয়েছে। প্রধান বিচারপতির কাছে জমা হওয়া আর্জিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।

ডিজিসিএর তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, ইন্ডিগোর ‘‘পরিকল্পনাজনিত গাফিলতি এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতির ভুল মূল্যায়ন’’ থেকেই এই সঙ্কটের সূত্রপাত। সংস্থার সিইও পিটার এলবারস জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার লক্ষ্য রয়েছে। যাত্রীদের কাছে তিনি আবারও ক্ষমা চেয়েছেন। তবে শুধু ভুল পরিকল্পনাই নয়, কেন্দ্রের নতুন ‘ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশনস’ বিধিও ইন্ডিগোকে বড় ধাক্কা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Humayun Kabir : স্থগিত করার দাবি উপেক্ষা করে শিলান্যাসে অনড় হুমায়ুন! অশান্তির আশঙ্কায় বেলডাঙা ছয়লাপ, দুপুরের অনুষ্ঠানের আগে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে!

এই বিধি অনুযায়ী পাইলট ও বিমানকর্মীদের বিশ্রামের সময় বাড়ানো হয়েছে এবং সপ্তাহে তারা কতগুলি নাইট ডিউটি করবেন, তারও কড়া সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু ইন্ডিগোর বড় অংশের ফ্লাইট রাতেই অবতরণ করে, তাই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই কর্মীসংখ্যার ঘাটতি প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাও সেই সমস্যাকে অস্বীকার করছে না। পাইলট ও কর্মীসংখ্যা কম থাকায় পরিষেবা বিঘ্নিত হয়েছে বলে ইন্ডিগোর দাবি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles