বেলডাঙার বাতাস যেন আজ অন্য রকম। সকাল থেকেই সাধারণ মানুষের মুখে একটাই আলোচনা—হুমায়ুন কবীরের বাবরি শিলান্যাস অনুষ্ঠান। শহরের রাস্তাঘাটে গতি থাকলেও কোথাও যেন অচেনা টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে রয়েছে। বহুদিন পর এমন কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘিরে এভাবে মানুষের চোখে কৌতূহল আর প্রশাসনের মুখে উদ্বেগ—দুটোই একসঙ্গে ধরা পড়ছে।
দুপুর বাড়তেই পরিস্থিতি আরও ঘনিয়ে এসেছে। কারণ ঠিক বারোটা বাজতেই শুরু হবে সেই বহু প্রতীক্ষিত শিলান্যাসের মূল অনুষ্ঠান। তার আগেই এলাকায় নিরাপত্তার চাদর এমনভাবে মুড়ে দেওয়া হয়েছে যে, মুহূর্তে বোঝা যায় প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকে যত বার চোখের সামনে পুলিশ দেখা গেছে, তা বহু বড় উৎসবের সময়ও দেখা যায় না। র্যাফ, জেলা পুলিশ, সিভিল ফোর্স—সবাই মিলে জমাট প্রস্তুতি।
এই কঠোর নিরাপত্তার পিছনে কারণও স্পষ্ট। হুমায়ুন কবীরের এই শিলান্যাসকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই শুরু হয়েছে নানা রাজনৈতিক টানাপড়েন। কিছু মহলের আশঙ্কা ছিল, অনুষ্ঠান ঘিরে অশান্তি বা উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আগেই। ফলে শেষদিনে কোনও অঘটন এড়াতে সকাল থেকেই নজিরবিহীনভাবে মোতায়েন করা হয়েছে বাহিনী।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর নিজে বারবার শান্তির বার্তা দিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে এসে কোনও রকম ‘ভিনজেলার ভাই’দের উস্কানিতে না পড়ার জন্য আগেভাগেই আবেদন করেছেন তিনি। তাঁর কথায়—এই অনুষ্ঠান ধর্মীয় ঐতিহ্যের, তাই মানুষকে শান্ত থাকতে হবে, যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতি বিগড়ে না যায়। তাঁর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—যে কোনও পরিস্থিতিতে তিনি অনুষ্ঠান স্থগিত করছেন না, কারণ এটা বিশ্বাস এবং মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত।
আরও পড়ুনঃ PIA Crisis: একসময়ের গর্ব থেকে দেউলিয়া! পাকিস্তানের জাতীয় বিমান পিআইএ এখন বিক্রির মুখে!
সব মিলিয়ে বেলডাঙা এখন নিরাপত্তা, রাজনীতি, ধর্ম—এই তিনের মিশেলে যেন এক অদ্ভুত উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল। দুপুরের অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে সাধারণ মানুষও। প্রশাসন আশ্বস্ত করছে, কোনও রকম গোলমাল হতে দেওয়া হবে না। আর হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য, “মানুষের বিশ্বাসকে অশান্তি দিয়ে নয়, শান্তি দিয়ে রক্ষা করতে চাই।” এখন দেখার—বাবরি শিলান্যাসের এই দিনটি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।





