Admission Crisis: ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে মেধা, যাদবপুরে ভর্তির আবেদন কমে অর্ধেকেরও নিচে!

রাজ্যের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির হার দেখে অনেকেই চোখ কপালে তুলছেন। যাদবপুর হোক বা প্রেসিডেন্সি—যেখানে পড়ার স্বপ্ন দেখেন বহু ছাত্রছাত্রী, সেখানে ভর্তির আবেদন অস্বাভাবিক ভাবে কমে গিয়েছে। শিক্ষাঙ্গনে প্রবল অনিশ্চয়তা, কখন ভর্তি হবে, কীভাবে হবে—তার কোনও স্পষ্ট উত্তর নেই এখনও। তারই জেরে এবার রাজ্যের বহু মেধাবী পড়ুয়া পাড়ি দিচ্ছে অন্য রাজ্যে। কেন এই হাল? প্রশ্ন উঠছে সমাজজুড়ে।

২০২৪ সালে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগে আবেদন জমা পড়েছিল ৫,৩৫৫টি, সেখানে এবছর কমে হয়েছে মাত্র ৩,৭৪২টি। অঙ্কে যেখানে আগের বছর ১৮৩৫টি আবেদন জমা পড়েছিল, সেখানে এবার মাত্র ৯৫৪। বাংলা বিভাগের পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক—৪০৬ থেকে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৯০-তে। আর্টস বিভাগেও দেখা দিয়েছে একই প্রবণতা। অধ্যাপক পার্থ প্রতিম রায় জানান, “অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়ে গেলে পড়ুয়ারা আর ফিরে আসবে না। ফলে যাদবপুরই সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

অন্যদিকে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রক্রিয়াতেও জট। কারণ প্রবেশিকা পরীক্ষার দায়িত্ব ছিল জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের হাতে। কিন্তু এখনও ফলপ্রকাশ হয়নি। ফলে গোটা ভর্তি প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন, “বিশ্ববিদ্যালয় নিজে কেন দায়িত্ব নিচ্ছে না?” বোঝাই যাচ্ছে, সময়মতো ভর্তি শুরু না হলে পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেছে নেবে।

জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফলপ্রকাশ না হওয়ায় শুধু প্রেসিডেন্সি নয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির ভর্তিও ঝুলে রয়েছে। সময়মতো ক্লাস শুরু না হলে পড়ুয়ারা সেমিস্টার শেষে প্রবল চাপে পড়বে, বাড়বে মানসিক অবসাদ—এমনটাই আশঙ্কা করছেন অধ্যাপক মহল। যাঁরা ইতিমধ্যেই অন্য রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করে দিয়েছেন, তাঁরা কি আর রাজ্যে ফিরবেন?

আরও পড়ুনঃ ৫ লক্ষেরও বেশি আবেদন! ঘোষণা হল SSC SLST পরীক্ষার দিন — পরীক্ষার্থীদের স্বস্তির নিঃশ্বাস

ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত জটিলতা, প্রশাসনিক দেরি এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর—এই সব মিলিয়ে ভর্তির সময়সীমা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের নেতা প্রদীপ্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত ভাবে সরকারকে বিপদে ফেলতে ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছেন।” যদিও শিক্ষা দফতরের দাবি, আবেদন প্রক্রিয়া শেষে সমস্ত আসন পূরণ হবে। তবে বাস্তবের ছবিটা তা বলছে না। প্রশ্ন একটাই—এই অবস্থায় রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা কি আর ছাত্রদের আস্থা ধরে রাখতে পারবে?

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles