যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চার নং গেট একসময় কেঁপে উঠত রাজনৈতিক স্লোগানে। নানা আন্দোলনের সাক্ষী থেকেছে এই প্রাচীর। অথচ সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনার পরেও দীর্ঘদিন ধরে ছিল নীরবতা। পড়ুয়া মৃত্যুর পর যাদবপুরের পরিবেশে ছড়িয়েছিল এক অদ্ভুত মৌনতা। প্রশ্ন উঠছিল, তবে কি এ বার পড়ুয়ারা চুপ?
ধীরে ধীরে সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। সাদা ব্যানার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পথে নামলেন। ব্যানারে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নেই, নেই কোনও সংগঠনের ছাপও। কেবল বড় হরফে লেখা ছিল— ‘নিরাপত্তার দাবি’। ব্যানারের সেই বার্তাই যেন ভেঙে দিল সপ্তাহখানেকের নীরবতা।
মিছিলে শোনা গেল নানা স্লোগান। কোথাও আজাদির ডাক, কোথাও আবার ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি। একইসঙ্গে উঠল সিসিটিভি বসানো নিয়ে আপত্তির কথাও। এক পড়ুয়া বলেন, “আমরা ক্যামেরার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কীভাবে বসানো হচ্ছে, তা নিয়েই প্রশ্ন। আমাদের ওপর নজরদারি চালানোর জন্য নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি চাই। আগে অবশ্যই সমস্ত পক্ষকে নিয়ে মিটিং হওয়া দরকার।”
এদিন আরও একাধিক অভিযোগ তোলেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের বক্তব্য, এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করা উচিত। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পর্যাপ্ত গার্ড নেই, রাতে মেয়েদের বাথরুম বন্ধ করে দেওয়া হয়। উপরন্তু এত বড় প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী উপাচার্য পর্যন্ত নেই— এমনই দাবি তুললেন পড়ুয়ারা।
আরও পড়ুনঃ Astrology: তুলা রাশিতে মঙ্গলের গমন! চার রাশির ভাগ্যে আসছে পরিবর্তন
তবে বৃহস্পতিবারের এই মিছিল শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বাইরেই থেমে যায়। মূলত গোলপার্ক পর্যন্ত যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, গেটের বাইরে আর এগোয়নি প্রতিবাদীরা। অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পর যাদবপুরের পড়ুয়ারা প্রথমবার একসঙ্গে পথে নামলেন। যদিও আন্দোলনের পথ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এতদিনের নীরবতার পর এই পদক্ষেপে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে গোটা রাজ্যজুড়ে।





