কলকাতার রাস্তায় আবারও দেখা যাবে পরিচিত মুখগুলো—হাতে মশাল, চোখে ক্ষোভ, কণ্ঠে প্রতিবাদের আগুন। আরজি কর হাসপাতালের সেই নারকীয় ঘটনার এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আগামী ৯ অগাস্ট। কিন্তু তবুও, থেমে নেই প্রশ্ন, থেমে নেই যন্ত্রণা। ‘ন্যায়বিচার এখনও অধরা’, এই দাবিতে ফের পথে নামতে চলেছেন রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের জুনিয়র ডাক্তাররা।
২০২৩ সালের ৯ অগাস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে ঘটে যাওয়া নারকীয় অত্যাচার এখনও ভুলতে পারেননি শহরবাসী। তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হয় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালত তাঁকে আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। কিন্তু জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের মতে, শুধুমাত্র সঞ্জয়ের শাস্তিতে ঘটনাটির ন্যায়বিচার সম্পূর্ণ হয়নি। বরং আরও অনেক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে—কাদের আশ্রয়ে এই ঘটনা ঘটেছিল, কারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল?
এই প্রশ্নগুলোকেই সামনে এনে ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির পথে হাঁটছেন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টর্স ফোরাম’-এর সদস্যরা। কিঞ্জল নন্দ, দেবাশিস হালদার, অনিকেত মাহাত, আসফাকুল্লা সহ একঝাঁক জুনিয়র ডাক্তার প্রকাশ্যে এসেছেন একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে। কিঞ্জল বলেন, “সেই রাতে কীভাবে ঘটনা আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা হয়েছিল, আমরা ভুলিনি।” দেবাশিসের প্রশ্ন, “কীভাবে দেহ সৎকার তড়িঘড়ি সেরে ফেলা হয়, কেন প্রতিবাদীদের বলা হয়েছিল—এটা ইন্টারনাল ম্যাটার?” সবটাই যেন ধোঁয়াশায় ঘেরা।
জুনিয়র ডাক্তারদের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে দু’টি বড় কর্মসূচির। প্রথমটি, ৮ অগাস্ট রাতে। রাত ৯টায় কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হবে মশাল মিছিল, গন্তব্য শ্যামবাজার। মধ্যরাতে সেখানেই হবে প্রতিবাদী সমাবেশ। দ্বিতীয় কর্মসূচি ৯ অগাস্ট সন্ধ্যা ৬টায় আরজি কর হাসপাতালের ‘ক্রাই অফ দ্য আওয়ার’ প্রাঙ্গণে। ডাক্তারদের আহ্বান—সাধারণ মানুষও যেন উপস্থিত থাকেন এই প্রতিবাদে, যেন অভয়ার আত্মবলিদান বৃথা না যায়।
আরও পড়ুনঃ Dark web: ধর্মান্তরের নামে বড় ষড়যন্ত্র! পাকিস্তানের নির্দেশে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করে তরুণ-তরুণীদের টার্গেট!
জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি, অভয়ার জন্য সুবিচার তো চাই-ই, পাশাপাশি ‘ধর্ষণ সংস্কৃতি’ ও ‘থ্রেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। অনিকেত মাহাতের কথায়, “আমরা শুধু একদিনের প্রতিবাদে থামব না। আজকের আন্দোলন ভবিষ্যতের নিরাপদ সমাজের বীজ হতে পারে।” তাই শহরের প্রতিটি মানুষকে এই দুই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা। কারণ, একা নয়—সমস্ত সমাজকেই বলার সময় এসেছে, আর ‘না’।





