সোশ্যাল মিডিয়ায় অদ্ভুত ছবি। কখনও হাতে AK-47, কখনও বা হ্যান্ড গ্রেনেড। কয়েকদিন আগেও যাঁরা ছিলেন সাধারণ তরুণী, তাঁরা আচমকা হয়ে উঠলেন সন্দেহভাজন! উত্তরপ্রদেশের আগ্রা শহর থেকে এই দুই তরুণীর আচরণ ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়ায় প্রশাসনে। তদন্ত শুরু হতেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে পুলিশের হাতে। সবশেষে এক ভয়ঙ্কর ধর্মান্তকরণ চক্র ও পাকিস্তান যোগের সন্ধান পায় তদন্তকারীরা, যার শিকড় ছড়িয়ে ছিল ডার্ক ওয়েব পর্যন্ত।
তদন্তে উঠে আসে, অনলাইনে পরিচয় তৈরি করে তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলত এক চক্র। অনলাইনে গেম খেলার নাম করে গড়ে উঠত আলাপ, তারপর শুরু হত মগজধোলাই। ধীরে ধীরে ওই তরুণ-তরুণীদের ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হত। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, এই প্রক্রিয়াটি ছিল একেবারে সুপরিকল্পিত এবং দীর্ঘমেয়াদি।
নিখোঁজ দুই তরুণীর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে তদন্তে নামে পুলিশ। সেখানে অস্ত্র হাতে ছবি দেখে সন্দেহ ঘনীভূত হয়। এরপর ছয়টি পৃথক জায়গায় হানা দিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে আরও চার জনকে পাকড়াও করা হয়। এখন পর্যন্ত এই চক্রে মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, দিল্লির আব্দুল রহমান এবং গোয়ার আয়েশা ছিলেন এই চক্রের মূল মাথা। এই দু’জনের মাধ্যমেই গোটা পরিকল্পনা ছড়িয়ে পড়ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এঁদের নেতৃত্বে চক্রের সদস্যরা তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করতেন, ধর্মান্তরণে রাজি না হলে ব্যবহার করা হত মানসিক চাপ, কখনও ব্ল্যাকমেলও।
আরও পড়ুনঃ মধ্যরাতে BMW-র দৌরাত্ম্য, পাঁচ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু – মদ্যপ চালককে ঘাড় ধরে থানায় নিয়ে গেলেন স্থানীয়রা
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের শেষ বিবৃতিতে। আগ্রার পুলিশ কমিশনার দীপক কুমার জানান, এই চক্রের সঙ্গে পাকিস্তানের তানভীর আহমেদ ও সাহিল নাদিম নামে দুই হ্যান্ডলারের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। তাঁরা ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে এই গ্যাংকে মদত দিতেন ও নির্দেশনা পাঠাতেন। তদন্তকারীদের অনুমান, এ একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ, যার শিকড় দেশের বাইরে পর্যন্ত বিস্তৃত।





