যেন কোনও সিনেমা! দেওয়াল বেয়ে উঠে যায় একটা আস্ত মানুষ। পুলিশ মহলে সে পরিচিত ‘স্পাইডারম্যান’ নামেই। দেওয়াল মসৃণ তো কী, কুছ পরোয়া নেহি, ওয়াটার পাইপ আর অল্প একটু কার্নিশ থাকলেই ব্যস!
না, স্পাইডারম্যানের মতো জালও বিস্তার করতে হয় না তাকে, পাইপ বা দেওয়াল বেয়ে, জানলা বেয়ে সহজেই লোকজনের ঘরের ভিতর ঢুকে মোবাইল, ল্যাপটপ হস্তগত করে সে। কলকাতার নানান জায়গায় চুরি করে বেড়াচ্ছিল এই স্পাইডারম্যান। অবশেষে শেক্সপিয়র সরণির এক বাড়িতে চুরি করার পরই পুলিশের জালে ‘স্পাইডারম্যান’ রবিউল।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিউল গাজি নামে ওই ‘স্পাইডারম্যান’ ট্যাংরার বাসিন্দা। কিছুদিন আগেই শেক্সপিয়র সরণির এক বাসিন্দা অভিযোগ জানান যে নিজের চারতলার ফ্ল্যাটটি যথেষ্ট সুরক্ষিত মনে করেই তিনি বারান্দার দরজা খোলা রেখেছিলেন।
কিন্তু শেষরক্ষা আর হল কই! ওই বারান্দা দিয়েই দুষ্কৃতী ভিতরে ঢুকে সাতটি মূল্যবান মোবাইল ও সাড়ে ন’হাজার টাকা চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন ওই ব্যক্তি। ওই মোবাইলগুলি ঘরের বিভিন্ন জায়গায় ছিল। আর টাকা ছিল আলমারির লকারে। বাড়ির বাসিন্দারা বুঝতেও পারেননি এই জিনিসগুলি কখন চুরি হয়েছে।
এই অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। ওই বাড়ি ও তার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে রবিউল ও তার এক সঙ্গীর ছবি ধরা পড়ে। সেই সূত্র ধরেই গোয়েন্দারা রবিউলকে শনাক্ত করেন। ট্যাংরায় হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় তাকে। তার সঙ্গীর থেকে চুরি যাওয়া টাকা ও রবিউলকে জেরা করে তিনটি মোবাইল উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা।
রবিউল জানায় যে চুরি করা মোবাইল বা ল্যাপটপ এজেন্টদের দেয় সে। এজেন্টদের কাছে অনেক কম টাকাতেই মোবাইলগুলি বিক্রি করে সে। পুলিশকে রবিউল জানিয়েছে যে যত উঁচু বাড়ি বা ফ্ল্যাটই হোক না কেন, পাইপ, কার্নিশ এমনকি সুযোগ পেলে দেওয়াল বেয়েও উঠে যায় সে। প্রাণের মায়া নেই তার। বারান্দা দিয়ে ঘরের ভিতর ঢুকে চুরি করে সে, এমনটাই দাবী রবিউলের।





