Kolkata High Court: হাই কোর্ট চত্বরে ‘আইনের অপমান’! কুণাল ঘোষদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার অভিযোগে তুঙ্গে চাঞ্চল্য!

আইনজীবী, বিচারপতিরাও যদি নিরাপদ না হন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কী হবে? আদালতের চত্বরে যাঁরা আইন রক্ষা করেন, তাঁরাই যদি আক্রান্ত হন, তাহলে সেটা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বিচারব্যবস্থার পরোক্ষ অপমানও বটে। সম্প্রতি এমন এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। ঘটনাটি শুধু বিচারব্যবস্থার নয়, সমস্ত মানুষের বিশ্বাসের উপর আঘাত হেনেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিচারালয়ের ভিতরে কিংবা আশপাশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকা উচিত। কিন্তু যাঁরা ন্যায়ের সন্ধানে আদালতের দ্বারস্থ হন, তাঁরাই যদি সেখানে অশান্তি ছড়ান, তা হলে সমাজ কী বার্তা পায়? আইনজীবীদের হেনস্থা এবং বিচারপতির বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য—এই ধরনের ঘটনা আদালতের গাম্ভীর্য নষ্ট করে। এই পরিস্থিতিতে হস্তক্ষেপ করল কলকাতা হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।

সুপার নিউমারারি পোস্ট সংক্রান্ত মামলার শুনানি বিলম্বিত হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে কিছু চাকরিপ্রার্থী হাই কোর্ট চত্বরে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিমকে হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধেও কটূক্তি করা হয় এজলাসে। বিষয়টি পৌঁছায় প্রধান বিচারপতির কাছে, যিনি তৎক্ষণাৎ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা গ্রহণ করেন এবং তিন বিচারপতির একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন।

বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও রাজর্ষী ভরদ্বাজের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এটি আদালত অবমাননার ফৌজদারি অপরাধ। কুণাল ঘোষ, রাজু দাস সহ ১৫ জনকে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বলা হয়, কে বা কারা অভিযুক্ত তা তদন্ত করে রিপোর্ট পেশ করতে। সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে—বিকেল ৪টে থেকে রাত ৯টার মধ্যে কিরণ শঙ্কর রায় রোড ও ওল্ড পোস্ট অফিস স্ট্রিট এলাকার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখবে পুলিশ।

আরও পড়ুনঃ Ceiling fan fell on professor : শিক্ষার ঘরেই বড় বিপদ! ক্লাসে পড়ানোর সময় মাথায় ভেঙে পড়ল সিলিং ফ্যান, ভাইরাল ভিডিয়োতে শিউরে উঠছে নেটপাড়া

বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আদালতের অবমাননা হলে শোকজ বা নোটিসই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজনে রুল জারি করা হবে। আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের সম্মানহানির অভিযোগে রুল জারি হয়েছে। এখন অভিযুক্তদের জবাব দিতে হবে।” বেঞ্চ জানায়, পুলিশ কমিশনার নিশ্চিত করবেন ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেওয়া হল, তেমনি আদালতের মর্যাদা রক্ষা করতেও দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে হাই কোর্ট।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles