যে ঘরে জ্ঞানের আলো ছড়ায়, সেখানে এমন বিপদ? ছাত্রছাত্রীদের জন্য ক্লাসরুম মানেই নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সেই আশ্রয় যে কখন ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তা ভাবতেই শিউরে উঠছেন অনেকেই। পড়াশোনার মাঝপথে যদি হঠাৎ মাথার উপর থেকে ঝাঁপিয়ে আসে বিপদ, তাহলে কে নিতে পারবে তার দায়? এমনই এক দুর্ঘটনার ছবি এই মুহূর্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেট দুনিয়ায়।
শিক্ষকেরা ক্লাসে ঢুকে প্রথমে পড়ুয়াদের পড়ায় মন দেন। কিন্তু তাঁর নিজের জীবন যে কতটা ঝুঁকির মুখে, তা হয়তো কেউ আন্দাজও করতে পারেন না। সাধারণ এক ক্লাসঘরের ভিতর আচমকাই ঘটে গেল এক এমন ঘটনা, যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই মুশকিল। পড়ুয়া থেকে শিক্ষক—সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক।
জানা গিয়েছে, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের একটি ক্লাস চলছিল যথারীতি। হঠাৎই সিলিং থেকে খুলে পড়ে যায় একটি পুরনো ফ্যান। সরাসরি গিয়ে পড়ে সহকারী অধ্যাপিকার মাথায়। মুহূর্তে যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকেন তিনি। পাশে বসে থাকা ছাত্রীরা চমকে গিয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। ওই মুহূর্তেই কারও মোবাইলে রেকর্ড হয় এই দৃশ্য। পরে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিয়োটি, যেখানে দেখা গিয়েছে অধ্যাপিকা মাথা চেপে ধরে বসে রয়েছেন এবং পাখাটি মেঝেতে পড়ে রয়েছে।
ইনস্টাগ্রামে ‘রিয়্যালডুএইড’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়। তিন দিনের মধ্যেই সেটি ৭৭ হাজারের বেশি লাইক পায়। বহু মানুষ এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর ক্লাসে বসা নিয়েই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এত বড় একটা বিপদ ঘটল অথচ এতদিন পরিকাঠামোর হাল ফেরানো হয়নি—এটা চরম গাফিলতি। কলেজের ছাত্র সংগঠন জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ফ্যান, ছাদ ও ক্লাসরুমের অবস্থা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, অথচ কোনও সংস্কার করা হয়নি।
View this post on Instagram
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর আহত অধ্যাপিকাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন, তবে স্থিতিশীল। একইসঙ্গে কলেজের তরফে জানানো হয়েছে, সমস্ত ক্লাসঘরের ফ্যান, আলো, বেঞ্চ ইত্যাদি পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেগুলি খারাপ সেগুলি পাল্টে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতটা সম্ভব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ Kolkata: দুপুরে বিস্ফোরণ, সন্ধ্যায় দাউদাউ আগুন! চারদিনে চার অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্কের শহর কলকাতা!
এই ঘটনা ঘটেছে গত সোমবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত কালিন্দি কলেজে। সেখানকার ৩২ নম্বর ক্লাসরুমেই ঘটেছে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন ইতিমধ্যেই ঘটনার নিন্দা করে তিন মাসের মধ্যে পুরনো ভবন সংস্কারের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এতদিন ধরে পরিকাঠামো নিয়ে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্লিপ্ত কেন? শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা কতটা জরুরি, তা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল এই দুর্ঘটনা।






