জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগর মানেই আলো, রঙ আর উৎসবের জোয়ার। কিন্তু এবছর অষ্টমীর সন্ধ্যাতেই যেন থেমে গেল সেই জৌলুস। আচমকা ঝোড়ো হাওয়া আর প্রবল বৃষ্টিতে স্তব্ধ হয়ে গেল উৎসবের আবহ। যে শহর আলোকসজ্জার জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাত, সেখানে নিরাপত্তার কারণে একে একে খুলে নেওয়া হল সব বড় বড় আলোর তোরণ।
সবকিছুর সূত্রপাত সপ্তমীর বিকেলেই। মানকুন্ডুর কানাইলালপল্লিতে তৈরি হয়েছিল ৭০ ফুট উঁচু পুজোমণ্ডপ, যার সামনে স্থাপন করা হয়েছিল ফাইবারের বিশাল জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। কিন্তু বিকেলে দমকা হাওয়ায় মুহূর্তে ভেঙে পড়ে সেই মণ্ডপ। হুড়মুড়িয়ে পড়া বাঁশের কাঠামোর তলায় আহত হন বেশ কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ—মণ্ডপের উচ্চতা অতিরিক্ত হওয়াতেই সামান্য ঝড়ে তা ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বুধবার সকালে জেলা প্রশাসন ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট একযোগে সিদ্ধান্ত নেয়—দুর্যোগে নতুন বিপর্যয় ঠেকাতে সব উঁচু তোরণ খুলে ফেলতে হবে। প্রায় ১৮০টি পুজো কমিটিকে স্পষ্ট নির্দেশ পাঠানো হয়, “আগে সুরক্ষা, পরে বিনোদন।” উঁচু জায়গায় বাঁধা আলোকসজ্জা ও রাস্তার তোরণ দ্রুত নামিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে যেসব স্থানে তোরণ খোলা সম্ভব নয়, সেগুলোর ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ করতে বলা হয়, যাতে বিদ্যুতের ত্রুটি বা কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে দুর্ঘটনা না ঘটে।
নিম্নচাপের জেরে বুধবার সকাল থেকেই হুগলির আকাশ ভারী। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া। বৃষ্টির জেরে একাধিক আলোকসজ্জার কাঠামো আলগা হয়ে পড়তে দেখা যায়। দু’টি এলাকায় তোরণ ভেঙে পড়ার খবরও মিলেছে, যদিও বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। তাঁদের নির্দেশেই রাতের মধ্যে শুরু হয় আলোর তোরণ খোলার কাজ।
আরও পড়ুনঃ ED Raid: তরাতলা থেকে লেকটাউন— সর্বত্র টাকার পাহাড়! পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী? ইডি-র হাতে বিপুল সোনা ও নগদ উদ্ধার
স্থানীয় এক পুজো উদ্যোক্তার কথায়, “আলোর ঝলকানি যতই প্রিয় হোক, মানুষের নিরাপত্তা তার চেয়েও বড়।” শহরের বহু কমিটি নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে আলোর কাঠামো খুলে ফেলেছেন। বৃষ্টি-ঝড়ে উৎসবের উন্মাদনায় সামান্য ভাটা পড়লেও, ভক্তি ও আনন্দে চন্দননগর এখনও উজ্জ্বল। ঠাকুর দর্শনে ভিড় কমেনি, তবে আলোর জৌলুসের বদলে এবার নজর সুরক্ষায়—যেন আনন্দে কোনও দুর্ঘটনা না ছায়া ফেলে।





