GOAT Tour: হায়াতের ৭৩০ নম্বর ঘরেই কি মেসি? সেভেন্থ ফ্লোর সিল, এক রাতের খরচ ঘিরে তুঙ্গে কৌতূহল!

কলকাতার ভোর সাধারণ গতির মধ্যেই শনিবার ভোরে সল্টলেকের একটি হোটেল সেই ছন্দ ভেঙে দেয়। আকাশি-সাদা জার্সি, কাঁধে পতাকা, হাতে মোবাইল—হায়াত রিজেন্সির লবিতে জমে ওঠে এক অদ্ভুত উত্তেজনা। কেউ বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ নিঃশব্দে করিডরের দিকে তাকিয়ে। মুখে মুখে একটাই নাম—মেসি।

ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ সেই অপেক্ষার কারণ স্পষ্ট হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে কলকাতায় পা রাখেন লিওনেল মেসি। বিমানবন্দর থেকে কোনও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাঁকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় সল্টলেকের হায়াত রিজেন্সিতে। ব্যাক এন্ট্রি দিয়ে ঢোকানো হয় তাঁকে, যাতে ভিড় এড়ানো যায়। কালো স্যুট আর সাদা টি-শার্টে চেনা ঝরঝরে উপস্থিতি—কিন্তু চোখের পলকে দৃশ্য শেষ। অপেক্ষায় থাকা শত শত সমর্থক তখনও বুঝে উঠতে পারেননি, এত কাছ দিয়ে ‘ফুটবল-দেবতা’ চলে গেলেন।

হোটেলে পৌঁছনোর পর থেকেই নিরাপত্তা বলয় আরও আঁটসাঁট হয়। সূত্রের খবর, মেসি উঠেছেন ৭৩০ নম্বর ঘরে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো সাত নম্বর ফ্লোরই সিল করে দেওয়া হয়েছে। ওই তলায় অনাবশ্যক যাতায়াত বন্ধ, নির্দিষ্ট লিফট ও করিডর ব্যবহারে কড়াকড়ি। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, সাধারণ অতিথিদের পরিষেবায় সমস্যা না হলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম মানতেই হচ্ছে সবাইকে। লবিতে ভিড় থাকলেও উপরের তলায় সম্পূর্ণ নীরবতা—যেন এক অদৃশ্য দেয়াল।

স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ঘুরছে একটাই প্রশ্নে—মেসি ঠিক কোন ঘরে থাকছেন, আর এক রাতের খরচই বা কত? আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে হোটেলের ওয়েবসাইটে দেখা যাচ্ছে, ওই দিনের জন্য প্রেসিডেনশিয়াল স্যুট অনুপলব্ধ। সাধারণ দিনে যার এক রাতের ভাড়া প্রায় দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি। ডিপ্লোম্যাটিক স্যুটের খরচ এক লক্ষের বেশি, অন্য বিলাসবহুল স্যুটগুলিও কয়েক দশ হাজার টাকার নিচে নয়। এই হিসাব ধরেই অনুমান, মেসি শহরে থাকার জন্য বেছে নিয়েছেন সবচেয়ে নিরাপদ ও বিলাসবহুল ব্যবস্থাই।

আরও পড়ুনঃ Lionel Messi : মেসিকে না দেখেই বিস্ফোরণ যুবভারতীতে! হাজার হাজার টাকার টিকিটে মিলল শুধু হতাশা, রণক্ষেত্রের ছবি কলকাতায়!

এই উত্তেজনার মধ্যেই হোটেলে দেখা মিলছে নানা রকম গল্পের। যেমন নিউ আলিপুরের একটি পরিবার। শুধুমাত্র ছেলের আবদারে একদিন আগেই হোটেলে চেক-ইন করেছেন তাঁরা। নবম শ্রেণির ছাত্র কৃষ গুপ্ত নিজে রোনাল্ডোর ভক্ত, তবু মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় লবিতে ঘোরাফেরা। ‘এমন মুহূর্ত বারবার আসে না,’ বলছে সে হয়তো দেখা হবে, হয়তো হবে না—কিন্তু এই অপেক্ষাটুকুই এখন কলকাতার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles