কোভিড পরিস্থিতিতে এবার যারা মেট্রো কার্ড-এর মাধ্যমে নিয়মিত যাতায়াত করেন তারা সাক্ষী হতে চলেছেন অভিনব এক আয়োজনের যার নেপথ্যে রয়েছে কলকাতা মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ এবং বন্ধন ব্যাঙ্ক। মেট্রোরেলে যাতায়াতকারী মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেল এই ব্যাঙ্ক।
কিন্তু কীভাবে তা সম্ভব?
আজ একটি ঘোষণা দ্বারা জানা গেল যে, কলকাতা মেট্রো যাত্রীদের জন্য যে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয় তাতে এবার থেকে থাকবে বন্ধন ব্যাঙ্কের লোগো। এইপ্রথম কলকাতা মেট্রোতে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান নিজেদের লোগো বসাবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি একটি অভিনব জনসংযোগ বৃদ্ধিকারী পদক্ষেপ।
চল্লিশ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কলকাতা মেট্রো কোন ব্র্যান্ডের সাথে হাত মেলাল যারা মেট্রোর বিপুল পরিমাণ যাত্রীদের সামনে প্রচার করার সুযোগ পাবে। এই সুযোগ কিন্তু আগে কোনো ব্র্যান্ড পায়নি।
কলকাতা মেট্রো এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। ১৯৮৪ সালে শুরু হওয়া এই পরিবহন ব্যবস্থা এখন নিত্যযাত্রীদের অন্যতম ভরসা। ধীরে ধীরে নিজেদের প্রসার বাড়াচ্ছে মেট্রো রেল। শহর ছাড়িয়ে তারা এবার শহরতলিতেও নিজেদের পরিষেবা শুরু করতে চলেছে। তাই বন্ধন ব্যাঙ্কের সঙ্গে মেট্রোরেলের এই মেলবন্ধন মানুষের জন্য অনেকটাই উপকারী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর পূর্ব ভারতে প্রথম ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাঙ্ক আজ একটি সর্বভারতীয় ব্যাঙ্ক হয়ে উঠেছে। বন্ধন ব্যাঙ্কের বয়স মাত্র পাঁচ বছর, এর মধ্যেই ভারতের অন্যান্য সরকারি এবং বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে পাল্লা দিচ্ছে চন্দ্রশেখর ঘোষ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এই ব্যাঙ্ক।

বন্ধন ব্যাঙ্কের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর চন্দ্রশেখর ঘোষ জানিয়েছেন, তারা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে তারা কলকাতা মেট্রোর সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটাতে পারছেন। কলকাতা মেট্রো কলকাতার নাগরিকদের অত্যন্ত গর্বের বিষয় এবং সেই গর্বের সঙ্গে বন্ধন ব্যাঙ্ক নিজেদের নাম যুক্ত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত।
তাঁর কথায়, “স্মার্ট কার্ডের এই ব্র্যান্ডি-এর ফলে অনেক বেশি মানুষ আমাদের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হবেন। আমরা খুশি যে কলকাতা মেট্রো তার সর্বপ্রথম পার্টনারশিপ ফরম্যাটে সঙ্গী হওয়ার জন্য আমাদের নির্বাচন করেছে।”
বস্তুত এতদিন অন্যান্য সংস্থা গুলি স্মার্ট কার্ডে নিজেদের বিজ্ঞাপন দিত কিন্তু এই প্রথম মেট্রোরেল পার্টনারশিপ ফরম্যাট শুরু করল এবং সেই ফরম্যাটের প্রথম সঙ্গী হওয়ার সুযোগ পেল বন্ধন ব্যাঙ্ক। কলকাতা মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার মনোজ যোশী বন্ধন ব্যাঙ্ককে তাদের এই প্রচেষ্টার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।





