INDIA জোটের জের! বামেদের প্রতি সুর নরম, কংগ্রেসকে কোনও তোপই নয়, একুশের মঞ্চে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শুধু বিজেপিকেই শানালেন মমতা

কিছুদিন আগে পর্যন্তও বাম বা কংগ্রেস কাউকেই ছেড়ে কথা বলতেন না তিনি। বাম-রাম-শ্যাম বলে কটাক্ষ করে কম খোঁচা দেন নি। কিন্তু এখন পাখির চোখ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন। এখন সেই বাম-কংগ্রেসই তাঁর ‘পরম বন্ধু’। সেই কারণেই কী একুশের মঞ্চে সাবধানতা অবলম্বন করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। বাম-কংগ্রেসকে ছুঁলেনই না এদিন তিনি। একুশের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একমাত্র নিশানায় ছিল শুধু বিজেপিই।

এদিন পঞ্চায়েত ভোটে বিক্ষিপ্ত অশান্তির অভিযোগ প্রসঙ্গ তুলে দুঃখপ্রকাশ করেন মমতা। বলেন, “সিপিএমের বন্ধুদের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকালই অ্যালার্জি। কিন্তু বুদ্ধদেববাবুর আমলে ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে কত মানুষ খুন হয়েছিল? ৮৯ জন। ২০০৮ সালে ভোটের দিন খুন হয়েছিল ৩৯ জন”।

ব্যস এটুকুই। সিপিএমের বিরুদ্ধে আর কোনও রকমের কোনও তোপ বা কটাক্ষ এদিন শোনা গেল না তৃণমূল নেত্রীর মুখে। গোটা ৪১ মিনিটের বক্তব্যে কোথাও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একটা শব্দও খরচ করেন নি তিনি। তাঁর গোটা বক্তব্য জুড়ে এদিন ছিল বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরের বিরোধী জোটকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন, তা তিনি আগেই বলেছিলেন। কিছুদিন আগে পঞ্চায়েত ভোটে অশান্তি ও হিংসা নিয়ে যখন বাম-কংগ্রেস শাসক দল তৃণমূলকে কটাক্ষ শানাচ্ছিল, সেই সময় মমতা স্মরণ করিয়েছিলেন যে জাতীয় স্তরে যেহেতু জোটের কথা চলছে, তাই বাম বা কংগ্রেস যেন কোনও মন্তব্য করার আগে ভেবেচিন্তে করে।

আর আজ সেই একই পন্থা নিজের ক্ষেত্রেও অবলম্বন করলেন মমতা নিজেও। একুশের মঞ্চ থেকে খুব সাবধানী হয়েই মন্তব্য করেন তিনি। ইন্ডিয়া জোটের কথা ভেবেই কী বাম-কংগ্রেসকে নিজের তোপের থেকে দূরে রাখলেন মমতা? রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্ন নিয়ে চর্চা কিন্তু কম হচ্ছে না।

RELATED Articles