West Bengal : ভোটার তালিকা বিতর্কে ধর্মতলায় ধর্না মমতার, ‘৬০ লক্ষ ভোটারের অধিকার’ ইস্যুতে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর!

ভোট যত এগিয়ে আসে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তাপ বাড়তে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। একদিকে বিরোধী শিবির বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে আক্রমণ করছে, অন্যদিকে শাসকদলও পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কলকাতার ধর্মতলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। বহুদিন পর রাজ্যের রাজনীতির অন্যতম পরিচিত প্রতিবাদের ধরন—ধর্না—আবার সামনে এসেছে।

কলকাতার ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল এলাকায় ইতিমধ্যেই ধর্নার মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে শাসকদলের বিধায়ক, নেতা ও কর্মীরা সেখানে পৌঁছতে শুরু করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচি কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং কয়েকদিন ধরে চলতে পারে। মন্ত্রী, মুখপাত্র ও দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও ধর্না মঞ্চে বক্তব্য রাখার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR)। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রক্রিয়ায় অনেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। শাসকদলের দাবি, প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে এবং তা সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফলে বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি আইনি গুরুত্বও পেয়েছে।

ধর্না মঞ্চ থেকেই দলের নেতারা ধারাবাহিকভাবে বক্তব্য রাখবেন বলে জানা গেছে। এই মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত। পাশাপাশি তিনি বিরোধীদের উদ্দেশ্যে একাধিক তথ্য তুলে ধরে পাল্টা প্রশ্নও ছুড়েছেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষের উপকার হয়েছে, এবং বিরোধীদের সেই তথ্য সামনে এনে শ্বেতপত্র প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ West Bengal : সরকারি বাড়ি নিয়ে বচসা! মহিলাকে বিব*স্ত্র করে মারধরের অভিযোগ তৃনমূল যুব নেতার বিরুদ্ধে!

দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, এই অবস্থান কর্মসূচি কয়েকদিন ধরে চলতে পারে, এমনকি প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্তও গড়াতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ধর্না মঞ্চে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা হবে। পাশাপাশি তিনি আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উদাহরণ সামনে আনবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ফলে ভোটের আগে ধর্মতলার এই ধর্না রাজনৈতিকভাবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles