Mamata Banerjee : “লজ্জা ঢাকার জায়গা নেই”—SIR ইস্যুতে ধর্মতলায় ধর্নায় মমতা, ভোটার তালিকা ঘিরে তোপ বিজেপি ও কমিশনের দিকে!

রাজনীতির ময়দানে কখনও কখনও এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন একটি কর্মসূচি শুধু দলীয় কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—সাধারণ মানুষের মনেও কৌতূহল তৈরি করে। শুক্রবার বিকেলে কলকাতার ধর্মতলায় ঠিক তেমনই এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই এলাকায় ভিড় বাড়তে শুরু করে, মঞ্চ তৈরি হয়, আর ধীরে ধীরে জমতে থাকে রাজনৈতিক উত্তাপ।

ধর্না শুরুর নির্ধারিত সময়ের কয়েক মিনিট আগেই মঞ্চে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর একে একে সেখানে হাজির হতে থাকেন তৃণমূলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার মনোনীত প্রার্থী রাজীব কুমার ও মানেকা অগ্নিহোত্রী। বিশিষ্টদের তালিকাতেও ছিল একাধিক নাম—কবি জয় গোস্বামী, গায়ক ও সুরকার কবীর সুমন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের বহু সাংসদ ও বিধায়ককেও দেখা যায় মঞ্চে। এমনকি সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া সিপিএমের প্রাক্তন যুব নেতা প্রতীক উর রহমানও সেখানে ছিলেন।

এই কর্মসূচির মূল ইস্যু উঠে আসে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে। মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের যৌথ পরিকল্পনায় যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ছে। তাঁর দাবি, বহু মানুষ এখনও জীবিত থাকলেও ভোটার তালিকায় তাঁদের ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। মঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, “নির্লজ্জ বেহায়া বিজেপি পার্টি, তার দালাল কমিশন। এই লজ্জা ঢাকার কোনও জায়গা নেই।” পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী দিনগুলোতে এমন বহু ‘মৃত’ ভোটারকে মঞ্চে হাজির করানো হবে।

তবে ধর্না চলাকালীন অন্য এক দাবিও সামনে আসে। বিকেলের দিকে পার্শ্বশিক্ষকদের একটি দল মঞ্চের সামনে এসে নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সেই সময় মমতা স্পষ্ট করে জানান, এই মঞ্চ মূলত নির্দিষ্ট একটি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “এটা রাজনীতির মঞ্চ না। কেউ রাজনীতি করবেন না। মানুষের স্বার্থে শুধুমাত্র SIR-এর প্রতিবাদ কর্মসূচি।”

আরও পড়ুনঃ West Bengal : ভোটার তালিকা বিতর্কে ধর্মতলায় ধর্না মমতার, ‘৬০ লক্ষ ভোটারের অধিকার’ ইস্যুতে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর!

এই ধর্না কর্মসূচির ঘোষণা আগেই করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে স্থায়ীভাবে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। দলের অন্দরের সূত্রে খবর, এই আন্দোলন একদিনে শেষ হওয়ার নয়—বরং পরিস্থিতি না বদলানো পর্যন্ত আরও কয়েকদিন এই ধর্না চলতে পারে। আর সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে, ধর্মতলার এই রাজনৈতিক অবস্থান ঠিক কতদিন ধরে চলবে এবং এর প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা পড়বে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles