উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা সাধারণত শান্ত পরিবেশের জন্যই পরিচিত। গ্রামীণ জীবনযাত্রা, সাধারণ মানুষের ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন কাজকর্ম—সব মিলিয়ে এলাকা সাধারণত বড় কোনও রাজনৈতিক বা সামাজিক বিতর্কে জড়ায় না। কিন্তু দুদিন ধরে সেই গাইঘাটাকেই ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। স্থানীয় একটি ঘটনার অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। প্রথমে বিষয়টি ছোটখাটো ঝামেলা হিসেবেই দেখা হলেও ধীরে ধীরে তা বড় বিতর্কের আকার নিতে শুরু করেছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সরকারি বাড়ির সামনে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা নিয়েই প্রথমে সমস্যার সূত্রপাত। ওই এলাকায় একটি সরকারি ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল বলে জানা গেছে। সেই নির্মাণকাজের জন্য রাস্তার পাশে পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী রাখা হয়েছিল। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই প্রতিবেশীদের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয় বলে দাবি করা হয়েছে। প্রথমদিকে ঘটনাটি সাধারণ বচসা হিসেবেই মনে হলেও পরিস্থিতি দ্রুতই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে।
বচসার সেই ঘটনার পরই সামনে আসে আরও গুরুতর অভিযোগ। আক্রান্ত এক মহিলার দাবি, বচসার সময় তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর পরনের পোশাক ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এবং বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় এক তৃণমূল যুব নেতা তন্ময় রায় এবং তাঁর কয়েকজন অনুগামী। যদিও অভিযুক্ত ওই যুব নেতা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার প্রকৃত চিত্র ভিন্ন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে। এমনকি তিনিও থানায় পাল্টা অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে ঘটনার দুই ভিন্ন দিক সামনে আসায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ দাউদের পাশে শারজায় মন্দাকিনী! রাতারাতি ছড়িয়েছিল ‘ড’নের সন্তানের মা’ হওয়ার ফিসফাস? নীল চোখের নায়িকা আর আন্ডারওয়ার্ল্ড ড’ন, বলিউডে কেন আজও আলোচনা ‘নিষিদ্ধ’ এই প্রেমকাহিনি নিয়ে?
ঘটনার পর থেকেই গাইঘাটা থানার পুলিশ পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এলাকায় যাতে নতুন করে উত্তেজনা না ছড়ায় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। স্থানীয়দের একাংশ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন। আপাতত এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুলিশের তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, আর তার ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা এলাকা।





