সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে আজ নিজের রাজনৈতিক জীবনের অধ্যায় নতুন করে ফিরে দেখালেন বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কখনও আবেগ, কখনও প্রতিবাদ, আবার কখনও উন্নয়নের হিসেব—সব মিলিয়ে দীর্ঘ বক্তব্যে উঠে এসেছে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শুরু করে কেন্দ্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের কথাও। সিঙ্গুরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও এ দিন আলাদা করে মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনের দিনগুলির স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, এই জায়গা তাঁর কাছে শুধুই একটি এলাকা নয়, বরং লড়াইয়ের প্রতীক।
বক্তব্যের শুরুতেই সিঙ্গুরের মাটির সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, দিনের পর দিন এই মাটিতে পড়ে থেকেছেন, ২৬ দিন অনশন করেছেন। এখান থেকেই তিনি মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই শুরু করেছিলেন। মঞ্চে দাঁড়িয়ে ‘SIR’ প্রসঙ্গে লেখা নিজের কবিতাও পাঠ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ‘SIR’-এর নামে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, এমনকি মানুষ মারার চক্রান্তও হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর বক্তব্যে আসে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রসঙ্গ। মমতা জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মোট ১৬৯৪টি পরিষেবা উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ৩৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে আগেও এক কোটি পরিবার উপকৃত হয়েছে, সম্প্রতি আরও লক্ষ লক্ষ পরিবারকে সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, এই সমস্ত প্রকল্পে কেন্দ্র কোনও আর্থিক সহায়তা দেয়নি, রাজ্য নিজের টাকাতেই সব করেছে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বারবার কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি পাঠানো হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। তাই কেন্দ্রের সাহায্য না পেলেও রাজ্য নিজস্ব অর্থে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুরু করেছে। প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে, যার একটি বড় অংশ শেষও হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি সিঙ্গুরে শিল্পায়নের কথাও তুলে ধরেন—কৃষিজমি রক্ষা করেই কৃষি ও শিল্প একসঙ্গে চলবে, এই বার্তাই দেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ Mamata Banerjee On Ajit Pawer : “এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া আবশ্যক” – অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোক!
বক্তব্যের শেষ ভাগে আরও আক্রমণাত্মক সুরে কেন্দ্র ও বিরোধীদের উদ্দেশে বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, প্রমাণ-সহ দিল্লিতে বারবার দাবি জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি আনন্দপুরে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও চাকরির আশ্বাসের কথাও জানান তিনি। ‘SIR’ প্রসঙ্গে আদালতে যাওয়ার কথাও স্পষ্ট করে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা একটাই—বাংলার মানুষের পাশে তিনি থাকবেন, প্রয়োজনে একা দাঁড়িয়েই লড়াই চালিয়ে যাবেন।





