Mamata Banerjee : “কোনও রাস্তা, কোনও গলি যেন বাদ না যায়”—বিএলওদের বাড়ি বাড়ি যাচাই করার নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শুনানি প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও মাত্র তিন দিন বাকি, আর তার আগে ভোটারদের তালিকা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব। মনে করা হচ্ছে, এই শেষ মুহূর্তের তৎপরতা নির্বাচনী মাঠে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটারদের প্রতি এই নজরদারি শুধু প্রশাসনিক নয়, এটি ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীদের উপরও এক ধরনের সতর্কবার্তা।

মঙ্গলবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর নবান্ন বাড়িতে কাউন্সিলর এবং বিএলও-২দের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক হয়। এই বৈঠকে মমতা স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, যাদের ভোটার তালিকা ম্যাপিং হয়নি, তাদের বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। নতুন ভোটার এবং যাঁদের নাম এখনও তালিকায় নেই, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুনানি করানো অত্যন্ত জরুরি। এমনকি তিনি বলেছেন, “কোনও রাস্তা, কোনও গলি যেন বাদ না যায়,” যা কার্যত ‘ম্যান মার্কিং’-এর নির্দেশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

তৃণমূলের দাবী, রাজ্যের প্রতিটি বুথে প্রতিটি বাড়ির ভোটারদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বিএলও-২দের বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায়। এ প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “শুনানি প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে সবার তথ্য সম্পূর্ণভাবে যাচাই করতে হবে। কেউ যাতে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।” রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে, যা ভোটার তালিকায় সঠিক সংশোধন নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তবে রাজনৈতিক মহলে অভিযোগও উঠেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু এলাকা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হচ্ছে। বিজেপির ইশারায় বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এই বিষয় নিয়ে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও দায়ের হয়েছে। মাইক্রো অবজারভাররা তত্ত্বাবধান করছেন, যাতে কোনও অনিয়ম না ঘটে এবং ভোটারদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষভাবে সুরক্ষিত থাকে।

আরও পড়ুনঃ Pakistan: ভারত-পাক ম্যাচের আগে পাকিস্তানের মিথ্যাচার! রাজীবের কণ্ঠ নকল এআই অডিয়ো নিয়ে সরব শুক্লা!

শেষ পর্যন্ত, মমতার বৈঠকের মূল বার্তা একটাই—প্রতিটি ভোটার গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে যে কোনও বাদ পড়া নাম নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই তিনি নির্দেশ দেন, বিএলও-২রা যেন প্রত্যেক বাড়ি গিয়ে যাচাই করে আসে এবং কোনও অংশে শিথিলতা না হয়। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে ‘শেষ মুহূর্তের তৎপরতা’ বলা হচ্ছে, যা নির্বাচনী মাঠে তৃণমূলকে একটি শক্ত অবস্থানে রাখতে পারে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

RELATED Articles